বিশ্বকাপের খেলা দেখার জন্য ফুটবল ভক্তদের কোনো পয়সা খরচ করতে যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ডের টেলিভিশন সমপ্রচার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। বৃহস্পতিবার জারি করা এ নির্দেশ তাদের “হ্যাপিনেস ক্যাম্পেইন”-এর অংশ বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ব্যাংককের রাস্তায় সেনাবাহিনীর নারী সদস্যদের নেচে নেচে গান করা, বিনা খরচে চুল ছাঁটা- অভ্যুত্থানের পর জনগণকে “সুখী” করার জন্য সেনাবাহিনীর নেয়া এসব পদক্ষেপ অসত্ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে। এসবের সঙ্গে এবার ফুটবল বিশ্বকাপকেও যুক্ত করা হল।
থাইল্যান্ডে বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর স্বত্ব কিনেছে আরএস ব্রডকাস্টার। তারা চ্যানেলের মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ খেলা বিনা খরচে দেখানোর পরিকল্পনা করেছিল। সবগুলো খেলা দেখতে আগ্রহীদের একটি ডিকোডার কিনতে হতো। এই ডিকোডারের মূল্য বেশি হওয়ায় অনেক গরীব মানুষই খেলা দেখার সুযোগ পেতো না। এই পরিস্থিতিতেই জনগণের মন জয় করার বাসনায় বিনা খরচে সবার জন্য খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করতে জাতীয় সমপ্রচার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় সরকার। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরএস ব্রডকাস্টার সরকারের কাছে ২ কোটি ১৫ লাখ ডলার দাবি করেছে বলে জানা গেছে। সেনা সরকার খুশি মনেই এ দাবি পরিশোধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশটি স্থবির হওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার অজুহাতে সেনাবাহিনী সমপ্রতি থাইল্যান্ডের ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়ে জান্তা সরকারবিরোধী কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভবিষ্যত্ আচরণের বিষয়ে সতর্ক করে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটির রাজধানী ব্যাংকক ও অন্যান্য অংশে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে।
