শিশুশ্রম নির্মূলে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
সেমিনারে বক্তারা শুধু বাংলাদেশে নয়; ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। ২০১৬ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নির্মূলে সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। ৭৬ ভাগ শিশুশ্রমের কারণ দরিদ্র্যতা। সেই জায়গায় কাজ করতে হবে। তারা শিশু সুলভ সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধির দাবি জানান। বাংলাদেশে এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব শিশুশ্রম নিরসন দিবস-২০১৪’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো নানা আয়োজনে বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে এদিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল— ‘সামাজিক সুরক্ষার পরিসর বাড়াই, শিশুশ্রম নিরসন করি’। শ্রমজীবী শিশুদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রমজীবী শিশুদের নিয়ে উদযাপন করে দিবসটি। দিবসটিতে অবিলম্বে দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে শিশুনীতি, শিশু আইন ও শিশুশ্রম নিরসন আইনের বাস্তবায়নসহ সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপকতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইসঙ্গে তারা অবিলম্বে গৃহশ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় প্রণীত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার বিষয়েও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের গতকাল সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর দেখানো হয়। এতে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক শিশু গৃহকর্মী যোগদান করে। শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ভিডিও ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীও তারা উপভোগ করে। নেটওয়ার্কভুক্ত সংগঠন নারী মৈত্রী ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে, ‘বিশ্ব শিশুশ্রম নিরসন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে শিশুনীতি, শিশু আইন ও শিশুশ্রম নিরসন আইনের বাস্তবায়নসহ সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপকতা বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরম যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ফায়জুর রহমান। বক্তারা বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়; ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিশ্বব্যাপী সমস্যা। ২০১৬ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নির্মূলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা বলেন, শিশুশ্রম নির্মূল করতে গেলে এর মূল জায়গায় আঘাত করতে হবে। শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড প্রোটেকশন বিভাগের পরিচালক নওমী কানানগারা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. শামীম ইসলাম, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরমের পরিচালক মো. এ এস মাহমুদ, ন্যাশনাল কর্ডিনেশন কমিটি অন ওয়ার্কার্স এডুকেশনের চেয়ারম্যান মো. জাফরুল হাসান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের লেবার এডভাইজার কাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএলওর আঞ্চলিক প্রতিনিধি গগন রাজভাণ্ডারি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আবদুল হাই মণ্ডল। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম নির্মূল করা এখনই সম্ভব না হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত খারাপ ধরনের কাজ থেকে শিশুদের সরিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের তালিকা চূড়ান্ত করেছে এবং ২০১৩ সালের শুরু থেকে শিশুশ্রম জরিপ শুরু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। তবে শ্রম আইন মোতাবেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান বক্তারা। আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম নিরসন দিবসে শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলনায়তনে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এসময় বক্তারা বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে পাঠাতে হবে, কারণ শিশুরা জাতির ভবিষ্যত্। তারা এ বিষয়ে সকল মহলে সচেতনতা জোরদার করার আহ্বান জানান। তারা অবিলম্বে গৃহশ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় প্রণীত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার বিষয়েও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক ও নারী মৈত্রীর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম নিরসন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্কভুক্ত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক শিশু গৃহকর্মী অংশগ্রহণ করে। শিশুরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে এবং লেখক প্রতিটি শিশুকে তার লেখা বই উপহার দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, প্রকল্প সমন্বয়কারী লুত্ফুন নাহার, প্ল্যান বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ইউনিট ম্যানেজার এম এ মান্নান ও নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। নেটওয়ার্কভুক্ত সংগঠন নারী মৈত্রী ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।