ইলিশ মাছের এখন ভরা মওসুম। মওসুমে স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীতে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। সন্ধ্যা নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলে পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন। বিগত দিনে এ মওসুমে জেলেদের জালে ধরা পড়ত প্রচুর ইলিশ এবং হাটে-বাজারে দেখা যেত ইলিশের ছড়াছড়ি; কিন্তু এ ভরা মওসুমে এখন দেখা মিলছে না ইলিশের। সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের আকাল। হাতেগোনা যত্সামান্য ইলিশ দেখা গেলেও দাম চড়া।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় তিন হাজার জেলে পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত থেকে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। মত্স্যজীবী পেশায় জড়িত ঐ সকল জেলে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মাছ ধরার জাল-নৌকা নিয়ে ইলিশের আশায় রাত-দিন নদীতে ব্যস্ত সময় পার করলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। ইলিশের আশায় জেলেরা প্রতিদিন জাল-নৌকা নিয়ে সন্ধ্যা নদী চড়ে বেড়ালেও ফিরে আসে খালিহাতে। সোহাগ দল গ্রামের মত্স্যজীবী মো. জামাল হোসেন জানান, ঋণে ঋণে জর্জরিত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কৌরিখাড়া গ্রামের আ. ছত্তার জানান, বিগত দিনে এ মওসুমে ছোট-বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়তো; কিন্তু এ বছর রূপালী ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলে পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে চরম আর্থিক সংকট। অপরদিকে এ মওসুমে বিগত দিনে সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের একশ্রেণির মত্স্যজীবী ইলিশ ভর্তি বোট নিয়ে মিয়ারহাট বন্দরে এনে পাইকারিভাবে মাছের আড়তে বিক্রি করতো; কিন্তু এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলের কোন মত্স্যজীবী ইলিশভর্তি বোট নিয়ে এখন পর্যন্ত এ বন্দরে আসেনি।
মিয়ারহাট বন্দরের মাছের আড়তদার মো. নাজমুল হক নাজু জানান, সাগরেই জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। ইলিশের আকালের ব্যাপারে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো.আব্দুল গাফফার ইত্তেফাককে জানান, ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সমস্ত নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না।
