দর্শনা কেরু চিনিকলে ৪০ টাকা কেজি দরেও চিনি বিক্রি হচ্ছে না। গত ৩ মৌসুমের ১৪ হাজার ৪ শত ৮০ দশমিক ৩০ মে:টন চিনি নিয়ে কর্তৃপক্ষ মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। চিনির গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চিনিকল সূত্রে জানা যায়, গত ২০১১, ১২ ও ১৩ মাড়াই মৌসুমের উত্পাদিত ১৪ হাজার ৯শ’ ৭৭ দশমিক ৪৫ টন চিনি মজুদ রয়েছে। পর্যাপ্ত গোডাউন না থাকায় কেরু প্রাথমিক বিদ্যালয় কেরুজ ক্লাব, ট্রেনিং কমপ্লেক্স, সিজেনাল ব্যারাক, ফার্মাসিউটিক্যাল ও ডিস্টিলারি গোডাউনে চিনি রাখা হয়েছে। গত ৩ মৌসুমের মজুদ চিনির বস্তাগুলো জমাট বেঁধে গেছে। চিনিকল এলাকায় মোট ৭৪ জন চিনি ডিলার রয়েছে। চিনি ডিলার আবেদ আলী জানালেন, কেরু চিনিকলের উত্পাদিত চিনি কিছুটা লালচে ও ব্যক্তি মালিকানাধীন চিনিকলের চেয়ে এ মিলের চিনির মূল্য বৃদ্ধি থাকার কারণে চিনি বিক্রি কম হয়ে থাকে। সে হিসাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন চিনিকলের উত্পাদিত চিনি দেখতে ধবধবে সাদা, ঝরঝরে, মূল্য কম এবং তাদের খরচেই প্রতি ডিলারের ঘরে চিনি পৌঁছিয়ে দিয়ে যায়। এজন্য ব্যবসাদার ও ক্রেতারা ওই চিনি বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি জানান, মুসলমানদের ধর্মীয় উত্সব শবে বরাতে দেশে প্রচুর চিনির চাহিদা থাকলেও কেরু চিনির চেয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন চিনিকলের ধবধবে সাদা চিনিই বিক্রি হচ্ছে বেশি। অধিকাংশ ডিলার বরাদ্দকৃত চিনি মিলগেট থেকে সময় মতো উত্তোলন না করার কারণে প্রতি টনে তাদেরকে জামানত থেকে ২০০ টাকা করে কর্তন করা হচ্ছে। মহা বিপাকে পড়েছে ডিলাররাও। এ বিষয়ে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ আজিজুর রহমান জানালেন, কেরুর চিনি গুণগতমান অত্যন্ত ভাল, কিন্তু দামে কিছুটা ব্যতিক্রম হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সমাধান হয়ে যাবে।
