স্পেন-নেদারল্যান্ডস দ্বৈরথে ফাইনালের আমেজ

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২২:৪০
স্পেন-নেদারল্যান্ডস, গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট এবার বিশ্বকাপের শুরুতেই গ্রুপপর্বে মুখোমুখি। সহজেই অনুমান করা যায়, কেমন উত্তাপ ছড়াবে জায়ান্ট দল দুইটির এ ম্যাচ। তারকা ফুটবলারে ভরপুর ম্যাচটি অনুষ্ঠানে প্রস্তুত সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তেনোভা স্টেডিয়াম, মুখিয়ে আছেন দর্শকরাও। কেননা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে গত বিশ্বকাপের ফাইনালের হারটির শোধ নিতে চায় নেদারল্যান্ডস। প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস সম্পর্কে স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেলবস্ক তো আগেই বলে রেখেছেন, ‘তাদেরকে আমরা ভয় পাচ্ছি না। কিন্তু তাদের প্রতি সমীহ রয়েছে আমাদের। তারা গত বিশ্বকাপের রানার্স-আপ।’ কোচ ডেলবস্ক অবশ্য নিজেদের প্রথম খেলাটিতে আক্রমণভাগ নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়ছেন। কেননা ব্রাজিলে জন্ম নিয়েও স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়ে দলে জায়গা পাওয়া দিয়েগো কোস্তা এরই মধ্যে নিজেকে খেলার জন্য পুরোপুরি সুস্থ বলে দাবি করেছেন। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছিলেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকারটি। সুস্থ হয়ে উঠলেও এই স্ট্রাইকারকে নাও খেলাতে পারেন কোচ দেলবস্ক। পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দেলবস্ক ‘ফলস নাইন (৪-২-৩-১) ফর্মেশনে’ খেলানোর পরিকল্পনা করছেন। এ ক্ষেত্রে মূল আক্রমণে রাখা হতে পারে সেসক ফেব্রিগাসকে, যেমনটা তিনি করেছিলেন ইউরো ২০১২ আসরে। এ ক্ষেত্রে দেল ইউরো ২০০৮-এর স্পেনের নায়ক ফার্নান্দো তোরেস অথবা দলের সবচেয়ে বেশি গোলদাতা ডেভিড ভিয়াকেও কাজে লাগাতে পারেন। কেননা এই দুই তারকা খেলোয়াড়ই সমপ্রতি প্রীতি ম্যাচগুলোতে বাড়তি নজর কেড়েছেন। একাধিক বিকল্প থাকায় রক্ষণভাগ নিয়েও মধুর সমস্যায় পড়তে পারেন স্পেন কোচ। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে জেরার্ড পিকে তার প্রথম পছন্দ। পিকে থাকলেও জাভি মার্টিনেজ এবং সার্জিও র্যামোসের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। রাইট ব্যাকে সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতা থাকছেনই। এদিকে, নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডার জোনাথন ডি গুজম্যান হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে থাকায় তাকে নামাতে পারছেন না কোচ লুই ফন গাল। তার জায়গায় নাইজেল ডি জংয়ের সঙ্গে মধ্যমাঠে দেখা যেতে পারে জর্ডি ক্লেইসকে। এবারের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বর্তমান রানার্স-আপরা ৪-৩-৩ ফর্মেশন নিয়ে খেললেও মূল আসরে রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করতে পারেন ফন গাল। এ ক্ষেত্রে স্পেনের বিপক্ষে আজ তাদের ফর্মেশনটা হবে ৫-৩-২। মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি এর প্রয়োগও করেছেন। এতে সেন্ট্রাল ডিফেন্স থাকবে তিনজন। লেফট এবং রাইট উইংয়ে রাখা হবে দুইজন ডিফেন্ডার। তথ্যপঞ্জি * ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আগেরবারের দুই ফাইনালিস্ট সরাসরি মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা-পশ্চিম জার্মানি, ১৯৯০ সালে ইতালিতে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। * স্পেন-নেদারল্যান্ডস এর আগে নয়টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এরমধ্যে দুইদলই সমান চারটি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে। ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপে এর আগে একবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা (গত বিশ্বকাপের ফাইনাল)। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল স্পেন। * ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেছিল স্পেন। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচে হারলেও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছিল তারা। * ভিসেন্তে দেলবস্ক স্পেনের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ২৫টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছেন। * স্পেন বিশ্বকাপে তাদের সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচের সব কয়টিতেই জয় পেয়েছে। বিশ্বকাপে এটাই তাদের সর্বোচ্চ টানা নৈপুণ্য। জয় পাওয়া ছয়টি ম্যাচের চারটিতেই লা রোজাদের গোল ব্যবধান ছিল ১-০। * নেদারল্যান্ডস গত সাতটি বিশ্বকাপের আসরের সব কয়টিতেই গ্রুপপর্ব উতরিয়েছে। * নেদারল্যান্ডসের রবিন ফন পার্সি ব্রাজিল বিশ্বকাপের ইউরোপীয়ান কোয়ালিফাইংয়ে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার (১১টি)। * বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন গত ১০ বিশ্বকাপের তিনটি আসরে প্রথম ম্যাচে জিততে পেরেছিল। হারতে হয়েছে চারটি ম্যাচে, ড্র হয়েছে তিনটি ম্যাচ।