ঈদ বাজার: খুলনায় তরুণীদের মন মজেছে সারারা-গারারায়

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২২:৩৩

২০ রমজানের পর থেকেই শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনায় ক্রেতাদের ভিড়ে ঈদের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিকিকিনি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত নগরীর অভিজাত বিপণী বিতানগুলো। তীব্র রোদ আর গরম উপেক্ষা করে তরুণ-তরুণীরা পছন্দের পোশাকের খোঁজে ছুটছেন অভিজাত মার্কেটগুলোতে। শিশু-কিশোর আর সাধারণ মানুষরাও বাদ যাচ্ছেন না এ থেকে। গরমে সুতি কাপড়ের পোশাকই বেশি পছন্দ বলে জানান ক্রেতারা।

খুলনায় ঈদের পোশাকে এবার তরুণীদের মন মজেছে সারারা-গারারায়। বড় ঘের, হাঁটুর নীচ থেকে কুচি  দেয়া সালোয়ার, সঙ্গে ভারি কাজ করা শার্ট অথবা মাঝারি কামিজ। সুতি কাপড়ে তৈরি এ পোশাকটির নাম ‘গারারা’। নিউ মার্কেট, খুলনা শপিং কমপ্লেক্সসহ অভিজাত বিপনী বিতানগুলোতে নিউ ফ্যাশন হিসাবে পোশাকটি তরুণীদের মন কেড়েছে। এর পরেই আছে বাহারি কামিজের সঙ্গে ধুতি ডিজাইনের সালোয়ার। এই থ্রিপিসটির নাম ‘সারারা’। গারারার পরেই ঈদ কেনাকাটায় দ্বিতীয় অবস্থানে সারারা। ঈদ বাজারে তরুণীদের লং ফ্রক গাউনও ভালো চলছে। এগুলো বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার থেকে আট হাজার টাকায়। এছাড়া কাতানের থ্রি পিস, গত ঈদের লং কামিজ এবং ফ্রকও এবার বিক্রি হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন ফ্রগের মধ্যে ইয়োলো বিরি, রাধিকো, স্কাট ওয়েস্টার্ন, ওয়ান পিস টপস, লং ফ্রক, গাউন, পিওর সিল্ক, পিওর জর্জেটে কাজ করা টু পিস, থ্রি পিস, পার্টি ফ্রক, গাউন, চায়না কাজ করা সুতি, জর্জেট প্রিন্ট, গুজরাটি, লিলেন পোশাক এবার ঈদ বাজারে নতুন এসেছে। এগুলো বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে ছয় হাজার টাকায়।

মধ্যম আয়ের লোকদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে নগরীর পিকচার প্যালেস, জলিল টাওয়ার, ক্লে রোড, নিক্সন মার্কেট, সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকার দোকানগুলোতে। তবে নিউমার্কেট, আড়ং, কেডিএ এভিনিউ ও মজিদ স্মরণী এলাকার অভিজাত বিপণীগুলোতে বিত্তবানদের কেনাকাটা চলছে বেশি। উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, নিক্সনমার্কেট এবং কিডস আইটেমের দোকানগুলোতে। বুটিকসের দোকানগুলোতেও রয়েছে তরুণীদের ভিড়। তবে দাম কম- বেশি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নদার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্রী শায়েলা জামান বলেন, এবারের ঈদে তরুণীরা সুতির থ্রি পিসই বেশি পছন্দ করছে। হাস হাসতে তিনি বলেন, এই গরমে সুতি কাপড় ছাড়া অন্য কিছু ভাবাই যাচ্ছে না।

পাঞ্জাবি খ্যাত আড়ংয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় করছে তরুণরা। এখানে ৮০০থেকে ৮ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। এবার সেফএন সেভ, নিউ মার্কেট, অঞ্জনস, দর্জিবাড়ি ইস্ট্যাসি, লায়িভ ফ্যাশন, রং, কালার, নবরূপা, মিলান, মেনজ ক্লাব, ইনিফিনিটি, এ্যাডলিভ, ইজি ফ্যাশন, কে ক্রাফটের পাঞ্জাবি ভালো চলছে। এছাড়া রেলওয়ে মার্কেট, জলিল টাওয়ার, আক্তার চেম্বার, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেটেও লাল, খয়েরি, কমলা, নীল, কালো, সাদা, ছাই, হালকা সবুজ বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। 
পাঞ্জাবি কিনতে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্র আসওয়াদ আলম বিদ্যুৎ জানান, নতুন পাঞ্জাবি ছাড়া ছেলেদের ঈদ ভাবাই যায় না। তবে তা হতে হবে আড়ংয়ের।

শাড়িতে ভারতের চেয়ে ঢাকাইয়া জামদানি, দেশি টাঙ্গাইল, রাজশাহী সিল্ক সব সময় বিক্রির শীর্ষে থাকে। এ বছর পিওর সিল্কের ওপর কাঞ্জিভরন কাতান শাড়িগুলো ভালো চলছে। এর দাম ৯ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশি জামদানি ৩ থেকে ১০ হাজার এবং দেশি টাঙ্গাইল ৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সুতির কাজ করা এ শাড়ির বিক্রি ভালো। শিপনের ওপর স্টোনের কাজ করা শাড়ি এবং শিপনের ওপর সুতার কাশ্মীরি কাজ করা শাড়িও ভালো চলছে। এগুলোর দাম ৭ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ব্যাংকার আব্দুল মজিদ মধু জানান, কদিন পর মার্কেটে ঢোকা মুশকিল হবে। তাই আগে থেকে কেনাকাটা করে রাখছি। অনেক গরম পড়েছে, তাই মেয়ের জন্য সুইচ কটন নিলাম। 
কলেজ ছাত্র আলামীন বলেন, আগে থেকেই পছন্দ পাঞ্জাবি। এবার কালেকশান ভালো। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। আড়ংয়ে কেনাকাটা করতে কলেজ শিক্ষক হুমায়রা লিসা জানান, দাম বেশি হলেও পোশাকগুলো মানসম্পন্ন। ঈদ যত এগিয়ে আসছে, বাজারে ভিড় তত বাড়ছে। তাই কেনাকাটা সারতে আগাম বাজারে আসা। দর্জিবাড়িতে আসা ইঞ্জিনিয়ার মোমেন জানান, প্রতিটি কালেকশানই এক্সক্লুসিভ। তবে সুতির কালেকশান এবার বেশি। ছোটদের পোশাকে সবসময় দাম একটু  বেশি থাকে। এবারও তাই।

ফ্যান্সী বাহারের আরিফ হোসেন জানান, গরমে দিনের বেলায় ক্রেতা কম আসছে, গত শুক্র ও শনিবার ভাল বিক্রি হয়েছে। রেডিমেট পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

সিলো টেইলর অ্যান্ড ক্লথ স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী সিরাজুল হক জানান, রোজার পনেরটা পর্যন্ত তেমন বিক্রি ছিল না। এখন একটু বিক্রি হচ্ছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত ভাল বিক্রি না হলে লোকসান গুনতে হবে। সোহরাওয়ার্দী মার্কেটের সুইটি ফ্যাশানের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, এবার তীব্র গরমে টিস্যু কাপড় এবং সুইচ কটনের পোশাকের বিক্রি বেশি।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, খুলনা থেকে রেল ও বাসে যাতায়াত সহজ হওয়ায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার যাত্রী কলকাতায় যাচ্ছেন। যার ফলে অনেকে ঈদের আগে দেশ ঘোরা এবং কেনাকাটা দুই কাজ এক সঙ্গে সেরে আসছেন। বন্ধন এক্্রপ্রেস থেকে খুলনাতে নামা যাত্রী আইরীন পারভীন বলেন, এনিয়ে দু’বছর কলকাতায় কেনাকাটা করছি। আমাদের মার্কেটগুলোতে তিন ভাগের এক ভাগ মূল্যে কলকাতায় ভালোমানের পোশাক পাওয়া যায়। আবার দেশ ঘোরাও হয়, কেনাকাটাও হয়।

নিউ মার্কেটের জামদানি হাউজের স্বত্তাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, গত তিন বছর যাবত খুলনায় ঈদের বেচাকেনায় মজা নেই। আবার অনলাইনের মাধ্যমেও অনেকে ঘরে বসে প্রিয় পোশাক পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়েও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি