সালাম মুর্শেদীর কলাম

চার দলেরই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২২:৪৩
চার বছরের অপেক্ষার ইতি টেনে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হয়ে গেছে গতকালই। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে আজ মুখোমুখি হচ্ছে এই আসরের অন্যতম সেরা দুটি দল স্পেন-নেদারল্যান্ডস। গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট এই দুই দলের দ্বৈরথে চাপা পড়ে গেছে দিনের অন্য দুটি ম্যাচ। যেখানে লড়বে ক্যামেরুন-মেক্সিকো এবং চিলি-অস্ট্রেলিয়া। আমার বিশ্বাস, শক্তিমত্তা বিচারে মুখোমুখি দলগুলোর অবস্থান খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিটি লড়াই হবে শেয়ানে শেয়ানে। ফুটবল ঐতিহ্য, তারকাদ্যুতি কিংবা শক্তিমত্তা; কোন বিচারেই আমি স্পেন ও নেদারল্যান্ডসকে আলাদা করতে পারছি না। সামপ্রতিক সাফল্য হয়তো আজকের ম্যাচে স্পেনকেই এগিয়ে রাখবে, তবে আমি দু’দলের কাউকেই ফেভারিট বলতে রাজি না। কারণ দু’দলের শক্তিমত্তা এবং দুর্বলতার জায়গাটা একই, মাঝমাঠ এবং স্ট্রাইকারদের ফিটনেস। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, মাতা এবং সিলভা; সেনাপতি জাভিকে কেন্দ্র করে স্পেনের মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্ব থাকবে এদের উপরে। এক নজর তাকিয়েই বলা যাচ্ছে, এই গ্রুপ তো বটেই, পুরো টুর্নামেন্টেরই সেরা মাঝমাঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মিডফিল্ডারদের পেছনে থেকে রক্ষণ-আক্রমণে ভারসাম্য আনার দায়িত্ব থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জাভি আলোনসোর। আমার মনে হয়, ক্লাবের মতো জাতীয় দলেও আলোনসোর ভূমিকাটা প্রায় একই রকম থাকবে। স্পেনের এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে খেলোয়াড়দের নিমিষে জায়গা পাল্টানোর ক্ষমতা। একই পজিশনে একাধিক পারফরমার থাকায় অন্য যে কোন দলের চাইতে এই কাজটা সহজে করতে পারে তারা। উইং থেকে যদি ডেভিড সিলভা আক্রমণে যান, তাহলে জাভি আলোনসোর সামর্থ্য আছে তার শূন্য জায়গাটা পূরণ করার। আবার লেফট উইং থেকে নিশ্চিতভাবেই আক্রমণে যাবেন সার্জিও রামোস। রক্ষণ কাজের পাশাপাশি, হঠাত্ করেই পাল্টা আক্রমণে যাবার ক্ষমতা আছে দারুণ ফর্মে থাকা এই রিয়াল তারকার। সেট পিসেও তার দক্ষতা প্রশ্নাতীত। রামোসের সঙ্গে জেরার্ড পিকে জুটি বেঁধে দলকে জমাট একটা রক্ষণভাগ উপহার দিয়েছেন জেরার্ড পিকে। গোলপোস্টের সামনে বিশ্বস্ত প্রহরী ইকার ক্যাসিয়াস তো থাকছেনই। তবে আমার মনে হয় উইং কিংবা ঝটিকা আক্রমণ থেকে নয়, স্পেন তাদের পাসিং ফুটবল খেলেই হারাতে চাইবে প্রতিপক্ষকে। একের পর এক পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙ্গে গোল করাটাই তাদের খেলার বৈশিষ্ট্য। আমার মনে হয়, আজকেও তেমন কিছুই করতে চাইবে তারা। তবে স্ট্রাইকারদের ফিটনেস এবং ফর্মহীনতা ভোগাতে পারে তাদের। নিজেদের সেরা ফর্মে নেই ফার্নান্দো তোরেস এবং ডেভিড ভিয়া। আর এই সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড দিয়েগো কস্তা ভুগছেন চোট সমস্যায়। মাঝমাঠে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছেন নেদারল্যান্ডসেও। গত দুই মৌসুমে ভাল করতে না পারলেও ডাচদের মিডফিল্ডের প্রধান তারকা ওয়েসলি স্নাইডার গ্যালাতাসারাইয়ের হয়ে এই মৌসুমে আবারো নিজের সেরা ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার পাশে রাইট উইংয়ে আরিয়েন রোবেন আছেন। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। আক্রমণভাগে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা রবিন ফন পার্সি। যদিও চোট সমস্যায় মৌসুমের অধিকাংশ সময়টাই সাইড বেঞ্চে কাটাতে হয়েছে তাকে। তবে আমার বিশ্বাস, ফিরে আসার উপলক্ষ হিসাবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’কেই বেছে নিতে চাইবেন তিনি। ভালো করার একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা থাকবে তার। তাছাড়া অন্য খেলোয়াড়দের মতো শারীরিকভাবে ক্লান্ত থাকবেন না তিনি। সবমিলে সমানে সমানেই লড়বে দু’দল। ক্যামেরুন-মেক্সিকোর ম্যাচে আমি খানিকটা এগিয়ে রাখবো ক্যামেরুনকে। কারণ, ব্রাজিলের গরম আবহাওয়া খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনার একটা বড় পরীক্ষা নেবে বলে মনে হচ্ছে আমার। কোন সন্দেহ নেই স্ট্যামিনার দিক থেকে মেক্সিকোর চাইতে এগিয়ে থাকবে আফ্রিকান দেশটিই। পাশপাশি স্যামুয়েল ইতোর মতো স্ট্রাইকার আছে তাদের যে কিনা একাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।