ভারতের এ প্রজন্মের শিল্পী শুভ শরণের গান মন মাতালো বাংলাদেশের দর্শকদের। ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গতকাল আয়োজন করে এ অনুষ্ঠানের। ‘দি শুভ শরণ প্রেজেন্টেশন’ শীর্ষক এ কনসার্টে ব্যান্ডের শিল্পীরা ফিউশনধর্মী সুরের ধারায় এক নতুন যন্ত্রসঙ্গীতের মাধুর্য ছড়াল দর্শক-শ্রোতার হূদয়ে।
শুভ শরণ মূলত গিটারিস্ট। জ্যাজ, নিউ সোল, ব্লুজ এর সঙ্গে ভারতীয় সঙ্গীতের অপূর্ব সংমিশ্রণে তার পরিবেশনা সত্যিই এক নতুন সুরের স্পর্শ দিল যেন। শুভ যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি কলেজ অব মিউজিক থেকে পড়াশোনা শেষে এখন পুরোপুরি সঙ্গীতের চর্চায় মগ্ন। তিনি একইসঙ্গে নিজে গান যেমন লেখেন তেমনি সুরও করেন। ইতিমধ্যেই শুভ শরণ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভিয়েতনাম, ভারত ও বাংলাদেশে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। আর তার নতুন ব্যান্ড দল নিয়ে গতকালই প্রথম কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হলো। তার ব্যান্ডের অন্য সদস্যরা হলেন পিয়ারিনস্ট রোহিত গুপ্তা, ড্রামার প্রণয় প্রাভিন ও বেইজ গিটারিস্ট জয়ন্ত মানচান্দা।
শুভ শরণের এই মিউজিক্যাল ইভেন্টে ‘মিডল অব সামহোয়্যার’ দিয়ে শুরু করেন তার কনসার্ট। এরপর একে একে গেয়ে শোনান ‘মিশন ম্যান’, ‘সিকিউরিটি’, এ আর রহমানের ‘লুকাছুপা’, ‘ইলেক্ট্রিক’, ‘দি সানডে’, ‘নেমেসিস’, ‘হোমওয়ার্ড বাউন্ড’সহ বেশি কিছু গান।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার পংকজ শরণ, তার স্ত্রী প্রীতি শরণ, কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল এন্ড ইনফরমেশন) সুজিত ঘোষ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়েরসহ অন্যরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা পবন কুমার দাস।
নাসির আলী মামুন এদেশের একজন প্রথিতযশা আলোকচিত্র শিল্পী। খ্যাতনামা সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের ছবি তুলতে তিনি বিশেষ পারঙ্গম। তাদের ব্যক্তিত্বের আলোকচ্ছটা তার ক্যামেরায় বিশেষ মর্যাদা নিয়ে পরস্ফুিট হয় এবং কিছু দুর্লভ মুহূর্ত তিনি ক্যামেরায় বন্দী করে রাখেন। ১৯৭২ সালে তিনি এদেশের পোট্রেট ফটোগ্রাফির সূচনা করেন এবং সৃষ্টি করেন এক নতুন ঘরানা। ক্যামেরায় ছবি তোলার পাশাপাশি তিনি পরম যত্নে ও মমতায় সংগ্রহ করেছেন শিল্পী-সাহিত্যিক ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের আঁকা বিভিন্ন মাধ্যমের ছবি। দীর্ঘ আলোকচিত্রী জীবনে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের আলোকচিত্র তাদেরকে যেমন উপহার দিয়েছেন, তেমনি সেইসব কৃতী ব্যক্তিত্ব তাকেও তাদের হস্তাক্ষর, চিঠিপত্র, পাণ্ডুলিপি ও চিত্রকর্ম ভালোবেসে উপহার দিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘কীর্তিমানদের শিল্পকর্ম’ শিরোনামে একটি প্রদর্শনী।
বিভিন্ন ক্ষেত্রের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নাসির আলী মামুনের দীর্ঘদিনের সখ্য তার সংগ্রহকে করেছে অর্থবহ এবং কালের নিরিখে তাত্পর্যপূর্ণ। তার সংগ্রহ থেকে ৫৪ জন কীর্তিমানের আঁকা ড্রইংগুলো প্রদর্শনীকে করেছে বর্ণময়। এধরনের প্রদর্শনী থেকে শিল্পানুরাগী ও শিল্প-সংগ্রাহকরা তাদের পছন্দের শিল্পীদের আঁকা ছবি সুলভে সংগ্রহ করতে পারবেন। এই প্রদর্শনীতে এমন কিছু দুর্লভ ড্রইং আছে, যা শিল্পমূল্যে খুবই গুরুত্ববহ। আর এসব দুর্লভ ছবি নিয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস এর আয়োজনে শুরু হলো প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের ব্যক্তিগত সংগ্রহের ‘কীর্তিমানদের শিল্পকর্ম’ শীর্ষক ড্রইং প্রদর্শনী।
শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাইশ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রফেসর এমিরেটাস আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী। বিশিষ্ট শিল্পী মনিরুল ইসলাম ছিলেন সম্মানিত অতিথি। প্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্মের সংখ্যা ১৩০টি। প্রদর্শনী আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে কামরুল হাসান, এস এম সুলতান, শামসুর রাহমান, আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, কাইয়ুম চৌধুরী, গণেশ হালুই, আনিসুজ্জামান, যোগেন চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিনসহ চুয়ান্নজন বিশিষ্ট শিল্পী ও লেখকের আঁকা চিত্রকর্মসমূহ।
আয়োজকরা জানান, ব্যক্তি উদ্যোগে নাসির আলী মামুন ‘ফটোজিয়াম’ নামে ফটোগ্রাফির একটি জাদুঘর গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে এদেশে গবেষণার ভিন্ন একটি দিক উন্মোচিত হবে। এমন উদ্যোগের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।
