আজ থেকে শুরু বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে সিরিজ
বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিমের প্রিয় দল স্পেন।
আগের রাতে সেই প্রিয় দল, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলকে নেদারল্যান্ডস যেভাবে হারিয়েছে তাতে মুশফিকের বড় কষ্টে থাকার কথা। কিন্তু মুশফিক কষ্টে নেই; আছেন চিন্তায়। না, স্পেন নিয়ে নয়; এখন বাংলাদেশ অধিনায়কের চিন্তা ভারতের বিপক্ষে কিভাবে ভালো একটা ফল নিয়ে মাঠ ছাড়া যায়।
মুশফিক মানছেন, বিশ্বকাপ ফুটবলটা তাদের ক্রিকেটারদের জন্যও আনন্দের একটা উপলক্ষ। তবে সেটা ক্রিকেটের জায়গা কিছুতেই নিতে পারে না, ‘আমাদেরও আনন্দ করার, মজা করার কিছু উপলক্ষ লাগে। বিশ্বকাপ ফুটবলটা সেরকম। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের প্রথম কাজ জাতীয় দলের হয়ে সেরাটা খেলা। ফলে আপাতত আমরা নিজেদের কাজেই ফোকাস করছি।’
এই ফোকাস করে কী অর্জন করতে চান, সেটাতেও মুশফিক অত্যন্ত পরিষ্কার। মুশফিক বলছেন, দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। সেটার ফল দেখতে চান মাঠে। আর ফলটা যে জয়ই চান, তা লুকানোর চেষ্টা করলেন না, ‘প্রত্যেকটি ম্যাচেই আমাদের লক্ষ্য থাকে জেতা। অনেকদিন পর আমরা খেলতে নামছি। ২০১৪ সালটা আমাদের মত করে শুরু হয়নি। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা যদি খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ। সবাই ব্যক্তিগতভাবে অনেক কষ্ট করছে। যার যে জায়গায় সমস্যা আছে সেটা নিয়েও কাজ করছে। আমাদের শুধু সেটা মাঠে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা মনে করছি, এটা আসলে নতুন করে শুরু করার একটা সুযোগ।’
এই সুযোগটা কাজে লাগানো খুব কঠিন নয়। কারণ দল হিসেবে ভারত তার সেরা খেলোয়াড়দের পাঠায়নি। এই সেরাদের না থাকাটা অবশ্য উল্টো মুশফিকদের ওপর ‘জিততেই হবে’ বলে একটা চাপ তৈরি করে দেয়ার ভয় থাকে। মুশফিক সে চাপও আছে বলে মানছেন না, ‘ওই চাপ বড় কিছু নয়। তার চেয়ে বেশি চাপ বলতে পারেন এ বছর আমরা এখনও একটি ওয়ানডে ম্যাচও জিততে পারিনি। ফলে ওদের দল কেমন, এটা ভেবে চাপ নেয়ার সুযোগ নেই আমাদের।’
সেইসঙ্গে ভারতীয় দলটাকে দুর্বল বলতেও রাজী নন মুশফিক, ‘হ্যা, এরা অনেক তরুণ। তবে তারা অনেক শক্তিশালী। আইপিএলে যারা সেরা ক্রিকেটার তারাই দলে সুযোগ পেয়েছে। ফলে কারো জন্যই কাজটা সহজ হবে না।’
মুশফিক বার বার বোঝাতে চাইলেন, তাদের লড়াইটা আসলে নিজেদেরই সঙ্গে। এ বছর খেলা সাতটি ওয়ানডের বেশ কটিতে কাছে গিয়ে হেরেছেন। এই নিজেদের ব্যর্থতাটার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে চান তারা, ‘এক ঘণ্টা ভাল খেললাম, আর দুই ঘণ্টা খারাপ খেললাম; এভাবে হবে না। আমরা এই সময়টাতে এসব নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এখন মাঠে সেটা করে দেখানোর পালা।’
এতো আত্মবিশ্বাসী মুশফিক কিভাবে হচ্ছেন, সেটা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। তবে মুশফিক বলছেন, অন্তত খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় যে পরিবর্তন তিনি দেখছেন, তাতে তিনি নিশ্চিত সাফল্য আসবে, ‘এটা ঠিক যে, সাতটা ওয়ানডে হারের পর আসলে নিজেদের ফিরে পেতে মরিয়া থাকব। এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সেই ইতিবাচক খেলার যোগ্যতা আছে। কালকের ম্যাচে আমাদের শারীরিক ভাষাটাও অন্যরকম সেটা দেখলে হয়তো টের পাবেন। আর আমরা এই ব্যাপারগুলো মাঠে দেখাতে পারলে ফলও আমাদের পক্ষে আসবে।’
