রবিন ফস পার্সি এবং আরিয়েন রবেনের জোড়া গোলে স্পেনকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে গত বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিল নেদারল্যান্ডস। একই সাথে বিশ্বকাপেও উড়ন্ত সূচনা করলো তারা। পক্ষান্তরে, শিরোপাধারী দল হিসাবে প্রথম ম্যাচে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জায় ডুবতে হলো স্পেনকে। তবে এই হারের ধাক্কা সামলে স্পেন দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে বলে আত্মবিশ্বাসী দলটির কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক।
গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের কাছে লজ্জাজনক এই হারের পর দেল বস্ক বলেন, ‘আমার খারাপ লাগছে সন্দেহ নেই। তবে এই হারের ধাক্কা সামলে ওঠার সাহসও আছে আমার। আমাদের শুরুটা দারুণ ছিল এবং সমান সমান থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করি আমরা।’
খেলোয়াড়রা এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ আরো বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে সব খেলোয়াড়ের মনোভাবও তেমনই। তারা ঘুরে দাঁড়াতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের স্কোয়াডটা দারুণ পেশাদার। যারা খেলেছে এবং যারা খেলেনি তারা সবাই আসলে এই দলের অংশ। সবাই মিলে আমরা কথা বলেছি। এবং আলোচনাটা ছিল খুবই ইতিবাচক। (এমন ম্যাচের পর) এটা জরুরীই ছিল।’
যে কোন প্রতিযোগিতা মিলে অর্ধ শতকেরও বেশী সময়ে স্প্যানিশদের সবচেয়ে বাজে ফলাফলও এটি। ১৯৬৩ সালে স্কটল্যান্ডের কাছে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হবার পরে স্পেন ৫১ বছর পরে গতকাল এত বড় ব্যবধানে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেল।
আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল শিরোপাধারীদের প্রথম ম্যাচে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের ঘটনা। শিরোপাধারীদের পরাজয়ের প্রথম নজিরটি ১৯৫০ সালের। বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১২ বছরের বিরতি শেষে ১৯৩৮’র চ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৫০ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলের হার দিয়ে!
পরের ঘটনাটি ১৯৭৮ বিশ্বকাপে। চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টাইনদের শুরুটা হয়েছিল বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলের হার দিয়ে। এরপর ১৯৯০ সালে একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল তাদের। সেবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টাইনরা। ২০০২ সালে সেনেগালের কাছে ১-০ গোলের হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের।
কিন্তু গত রাতে হল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে সবাইকে ছাড়িয়ে গেল স্পেন। কিন্তু সেই ছাড়িয়ে যাওয়াটা গৌরবের নয়, নিশ্চিতভাবেই লজ্জার।
অথচ ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেনই। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ডি বক্সের ভিতরে কস্তাকে ফাউল করার অপরাধে ইতালিয়ান রেফারী নিকোলা রিজোলি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। জাভি আলোনসো সহজেই স্পট কিক থেকে ডাচ গোলরক্ষক জাসপার সিলিসেনকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে নেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ডেভিড সিলভা ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সিলিসেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকার শট তালুবন্দী করতে ভুল করেননি।
ডাচরা ম্যাচে ফেরে রবিন ফন পার্সির গোলে। ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা বলে অবিশ্বাস্য এক হেডে স্পেন অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসকে পরাস্ত করেন তিনি।
প্রথমার্ধের হাইলাইটসে যদি স্পেনের কিছু অংশ থাকেও দ্বিতীয়ার্ধটা পুরোটাই ডাচদের গল্প। বিরতির পরপরই আয়াক্স আমস্টারডামের তরুণ ডিফেন্ডার বি¬ন্ডের অসাধারণ এক পাস গোল এরিয়ার মধ্যে রবিনকে খুঁজে পায়। ডান পায়ে বলের দখল নিয়ে দর্শনীয়ভাবে রবিন ছিটকে ফেলেন তার সঙ্গে থাকা সার্জিও রামোস ও জেরার্ড পিকেকে। এই গোলের পর দ্রুতই গোলের আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল কমলা জার্সিধারীরা। তবে ফন পার্সির জাড়ালো শটটি প্রতিহত হয় ক্রসবারে। তবে ভুল করেননি ডি ভ্রিজ। ৬৪ মিনিটে স্নেইডারের একটি অসাধারণ ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন এই সেন্টার ব্যাক। ৬৭ মিনিটে সিলভার আরেকটি প্রচেষ্টা সিলিসেন আটকাতে ব্যর্থ হলেও তা অফ সাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ক্যাসিয়াসের একটি ভুলের সুযোগে ৭২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন ফন পার্সি। ম্যাচের একেবারে শেষের দিকে ফন পার্সি তার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড রোবেনের কাছে ছেড়ে দিয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। আর অধিনায়কত্ব পেয়ে উজ্জীবিত হয়েই কিনা ৮০ মিনিটে রোবেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে দারুণ এক গোল উপহার দেন। বাসস/ ওয়েবসাইট।
