আর্জেন্টিনা, বসনিয়া-হার্জেগোবিনা, ইরান ও নাইজেরিয়া। ‘এফ’ গ্রুপে ফেভারিট যে আর্জেন্টিনা এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে বিশ্বকাপে সহজ গ্রুপ বা কম শক্তিশালী দল বলে কিছু নেই বলে মনে করছেন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ ‘এফ’ নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা বলেছেন, ‘আমাদের গ্রুপটি দারুণ। আমাদের দলটাও ভাল। বিশ্বকাপ অনেক কঠিন একটি টুর্নামেন্ট। এটা জিততে হলে আমাদের অনেক লড়াই করতে হবে।’
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আজ শেষরাত প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা বসনিয়া-হার্জেগোবিনার মুখোমুখি হচ্ছে। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ঐ ম্যাচটির মধ্যদিয়ে শুভ সূচনা করতে চায় আলেসান্দ্রো সাবেলার শীষ্যরা। তবে এই দ্বৈরথ ছাপিয়ে সবার সজর থাকছে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার মেসির দিকে।
ক্লাব ফুটবলে এমন কিছু নেই যেটা বার্সার হয়ে তিনি অর্জন করেননি মেসি। বিশ্বকাপ জিতলেই অমরত্ব লাভ করবেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে মেসিকে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ জিততে পারলে এই তুলনাটা যথাযথ বলে প্রমাণ দিতে পারবেন মেসি। তার হাত ধরেই সাবেলার দল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিততে বলে ধারণা অনেকের।
আর্জেন্টিনা-বসনিয়া দ্বৈরথে কে ফেভারিট এটা সহজেই অনুমেয়। বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে সহজ জয়ই প্রত্যাশা করতে পারে আর্জেন্টিনা। মেসি, আগুয়েরো, ডি মারিয়া ও হিগুয়াইনদের আর্জেন্টিনার সামনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা বসনিয়া অভিজ্ঞতায়ই তো অনেক পিছিয়ে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার চাপটা সামাল দেয়া তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে দ্বৈরথটিতে বাড়তি রসদ যোগাবে সংশ্লিষ্ট ভেন্যু মারাকানা! কিংবদন্তী পেলের হাজারতম গোল করা এই ভেন্যুতে খেলা ইতিহাসের অংশ হওয়াই বৈকি! জয়-পরাজয় যা-ই হোক।
সচরাচর আর্জেন্টিনাকে পাল্টা আক্রমণধর্মী ফুটবলে তেমন দেখা না গেলেও বসনিয়ার বিপক্ষে কোচ সাবেলা অ্যাটাকিং ফুটবলেই বেশি জোর দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলা যেতে পারে বসনিয়ার বিপক্ষে কৌশলটা পরীক্ষা করে দেখবেন আর্জেন্টাইন কোচ।
এ ক্ষেত্রে মেসিকে যথারীতি ডান উইংয়েই খেলাবেন সাবেলা। সার্জিও আগুয়েরোকে দেখা যেতে পারে সেন্ট্রাল অ্যাটাকে। সদ্য হাঁটুর চোট কাটিয়ে ওঠা গঞ্জালো হিগুয়াইনকে দেখা যেতে পারে বাম উইংয়ে। তবে ম্যাচটিতে বেঞ্চেই বসে থাকতে হতে পারে ইজেকুয়েল লেভেজ্জিকে। সাবেলা মধ্যমাঠে মূল ভূমিকায় রাখছেন জাভিয়ের ম্যাশেরানোকে। রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে মধ্যমাঠে রাখা হলেও অ্যাটাকিং ভূমিকা রাখা হবে।
বসনিয়াকেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার মন্ত্র দিয়েই মাঠে নামাবেন কোচ স্যাফেত সুসিক। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা দুই স্ট্রাইকারের কৌশল থেকে সড়ে আসতে পারেন তিনি। বিশ্বকাপে তার কৌশলটা হতে পারে ৪-২-৩-১। এ ক্ষেত্রে এডিন জেকোকে একমাত্র স্ট্রাইকারের ভূমিকায় দেখা যাতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকারকে বল যোগান দেয়ার দায়িত্বে থাকবেন মিডফিল্ডার জেজদান মিসিমোভিচ ও মিরালেম পিজানিক। তবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা বসনিয়ার রক্ষণভাগ বেশ চিন্তায় পড়তে পারেন কোচ সুসিক। ভঙ্গুর প্রকৃতির রক্ষণভাগের ওপর খুব বেশি ভরসা রাখতে পারছেন না তিনি। দলটির রক্ষণভাগে অধিক দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে সেন্টার ব্যাক এমির স্পাহিককে। ইনজুরি কাটিয়ে ওঠেছেন দলটির সেজাদ স্যালিহোভিচকে। তাকে দেখা যেতে পারে লেফট-ব্যাকের দায়িত্বে। সেয়াদ কোল্যাসিনাককে দেখা যেতে পারে সেন্টার-ব্যাকের দায়িত্বে।
আর্জেন্টিনা-বসনিয়া ম্যাচ আজ
* আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তাদের গত ১২টি ম্যাচের মধ্যে নয়টিতে জয় পেয়েছে। হারতে হয়েছে মাত্র একটিতে। ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। ১২ ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোল দিয়েছে ১২টি, হজম করেছে চারটি।
* গত নয়টি বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে দু’টিতে জয় পেয়েছে। ড্র হয়েঠে চারটি ম্যাচ, হারতে হয়েছে তিনটিতে।
* এবারের বিশ্বকাপে বসনিয়া-হার্জেগোবিনাই একমাত্র দেশ যারা প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছে।
* আর্জেন্টাইন তারকা বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৫৭১ মিনিট খেলে গোল করেছেন মাত্র একটি। গোল পোস্টে নেয়া তার ৩১টি শটের মধ্যে একটিই জালে জড়িয়েছে।
* এর আগে আর্জেন্টিনা-হার্জেগোবিনা দু’বার মুখোমুখি হয়েছে। দু’টি ম্যাচেই জয় আর্জেন্টিনার। এরমধ্যে বসনিয়ার জালে সাতটি গোল দিয়েছে তারা। হজম করতে হয়েছে একটি।
* এবারের বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৩৫টি) গোল করেছে সাবেলার দল।
* এবারের বিশ্বকাপের ইউরোপীয় বাছাইপর্বে বসনিয়ার এডিন জেকো গোল করেছেন সবচেয়ে বেশি। ১০টি গোল করেছেন সরাসরি, চারটি গোলে বল যোগান দিয়েছেন তিনি।
* এবারের বিশ্বকাপের বাছাইয়ে জেকো এবং তার সতীর্থ ভেদাদ ইবিসেভিচ হেড দিয়ে চারটি করে গোল করেছেন। বাছাইপর্বে বসনিয়া হেড থেকে যে আটটি গোল পেয়েছে এর সবগুলোই এই দু’জনের ভূমিকা ছিল।
