কোপাকাবানা বিচে আর্জেন্টাইনদের উত্সব

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৪, ২১:৫০
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল রিও ডি জেনেরিও রিও ডি জেনেরিওতে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচ খেলবে। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভীড়ে কোবানা বিচে পা ফেলার জায়গা নেই। সমর্থকরা বন্ধু বান্ধবী তো এসেছেনই। অনেকে বাবা মা কোলের শিশুকে নিয়েও এসেছেন ব্রাজিলের রিওতে। খেলা দেখবেন বলে। কোথাও হাঁটার জায়গা নেই। সব জায়গায় আর্জেন্টাইন সমর্থক। তরুণ তরুণীরা মেসির জার্সি গায়ে আনন্দ করছেন। যাদের হাতে টিকিট নেই, তারাও এসেছেন ফ্যানফেষ্টে দাঁড়িয়ে খেলা দেখবেন বলে। হোটেল আর বিচ সর্বত্রই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভীড়। ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গেলে কারো না কারো সাথে আপনার ধাক্কা লাগবেই। কোপাকাবানার বিচে ফ্যানফেষ্টের আয়োজন করা হয়েছে ফুটবল দর্শকদের জন্য। আর্জেন্টিনা থেকে আসা ১৩ বছরের স্কুল ছাত্র ফ্যাকুনডা, বাবা পেডরোর হাত ধরে এসেছেন। বাড়ি তার বুয়েন্স আয়ার্সে। বারসাতেই এলাকার নাম। এই এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরেই থাকেন ফুটবল কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু কোনো দিন সামনে দেখা হয়নি। বাবা পেডরো দেখেছেন। বুয়েন্স আয়ার্সে খেলতে দেখেছেন। মাঠেই ছিলেন তিনি। তাই আফসোস নেই ম্যারাডোনাকে না দেখার। স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন আর্জেন্টাইনরা। তবে সেখানে নাকি এখন ইংরেজি ভাষার চর্চা শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শেখানো হচ্ছে বলে সন্তানরা এখন ইংরেজিতে কথা বলেন। পেডরোর বড় ছেলে ইংরেজিতে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন ফুটবল তারা কতোটা ভালোবাসেন। চার বছর বয়স থেকে ফুটবল খেলা শেখানো শুরু হয় আর্জেন্টিনায়। ইংরেজি জানা ছেলেটি বললেন, আমাদের বাড়ির এলাকা থেকেই ৩০ হাজার দর্শক এসেছে। বুয়েন্স আয়ার্স থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্যাব্রিয়াল দুই বাচ্চা নিয়ে এসেছেন রিওতে। বললেন, আমরা ম্যারাডোনার বাসার কাছাকাছি থাকি। কিন্তু ২০ বছর আগে সেই যে একবার দেখা হয়েছিল এর পর আর দেখা মেলেনি তার। টিভিতে দেখি। এই ভদ্রলোকের বন্ধু আরিয়েল ফার্নান্দোজ এসেছেন খেলা দেখবেন। তার ছেলে ইংরেজি স্কুলে পড়ছে। ১০ বছর বয়সের মাতিয়াস বলে উঠলেন, সবাই শুধু ম্যারাডোনার সাথেই দেখা করতে চায়।’ এই ছোট ছেলের বাবা আরিয়েল বললেন, আমার বাসা থেকে ৫০টা রাস্তা পার হলেই ম্যারাডোনার বাসা। কিন্তু আমি কখনো দেখিনি। টিভিতে খেলা দেখে আনন্দ করেছি।’ আর্জেন্টিনার ম্যাচের সুযোগে বান্ধবী নিয়ে এসেছেন আবার অনেক দম্পতি হানিমুন করতে এসেছেন কোপাকাবানা বিচে।