বিশ্বকাপে যে প্রত্যেক দলই আশানুরূপ ভাল করবে তা নয়। অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স নিয়েও বিদায় নিতে হয় অনেক দলকে। শনিবার রাতে উরুগুয়ে-কোস্টারিকার ম্যাচটিই দারুণ না? কোস্টারিকার কাছে ৩-১ গোলে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে হারটা অপ্রত্যাশিতই। বিশ্বকাপ ফুটবলে সেরা দশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়েই এই আয়োজন—
কোস্টারিকা ৩ : উরুগুয়ে ১ (২০১৪*)
এবারের বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে ফেভারিট ভাবছেন অনেকে। কিন্তু শনিবার রাতে প্রথম ম্যাচেই এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে কোস্টারিকা। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধরনের অঘটনের জন্ম দিল মধ্য-আমেরিকার দেশটি। কোস্টারিকার গোল তিনটি করেছেন ডিফেন্ডার অস্কার দুয়েরতে, ফরোয়ার্ড জোয়েল ক্যাম্পবেল ও মার্কো উরেনা। কোস্টারিকার তিনটি গোলের বিপরীতে পেনাল্টি থেকে একটি গোল দিয়েছেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড এডিনসন কাভানি। এই হারে ‘ডি’ গ্রুপের দল উরুগুয়ের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা গ্রুপটিতে ইতালি এবং ইংল্যান্ডের মতো বাঘা বাঘা দল রয়েছে।
আলজেরিয়া ২ : পশ্চিম জার্মানি ১ (১৯৮২)
ওই বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। ফাইনালে তারা ৩-১ গোলে হেরেছিল। অথচ গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে মারাত্মক হতাশার জন্ম দিয়েছিল তারা। এর আগে বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দেশ ইউরোপীয়ান কোনো দেশকে হারাতে পারেনি। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে হারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভাল করায় নক-আউট পর্বে উঠতে কোনো সমস্যা হয়নি জাপ ডেরওয়েলের শিষ্যদের। গ্রুপের ফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়েই নক-আউট পর্ব খেলে পশ্চিম জার্মানি।
উরুগুয়ে ২: ব্রাজিল ১ (১৯৫০)
রেকর্ড দুই লাখ সমর্থক উপস্থিত মারাকানা স্টেডিয়ামে। ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের মুখোমুখি উরুগুয়ে। শিরোপা জিতবে ব্রাজিল—এমন প্রত্যাশাই ছিল সবার। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। কিন্তু বিধি বাম। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় উরুগুয়ে। খেলার ৬৬ মিনিটে শিয়াফিনোর গোলে সমতা ফেরায় তারা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে উরুগুয়ের অ্যালচিদেস ঘিগিয়া গোল করলে পিন পতন নীরবতা নেমে আসে মারাকানায়। ব্রাজিলকে হতবাক করে দিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় উরুগুয়ে!
বুলগেরিয়া ২ : জার্মানি ১ (১৯৯৪)
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে এই অঘটনের শিকার হয় জার্মানি। আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে বুলগেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে মারাত্মক হতাশার জন্ম দেয় তারা। প্রথমবারের সেমিফাইনাল খেলে বুলগেরিয়া। হেরে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় জার্মানি।
ইতালি ১ : দক্ষিণ কোরিয়া ২ (২০০২)
এর আগে কোনো বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব উতরাতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। তাও আবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক-আউট পর্ব খেলেছে ওই বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিকরা। নক-আউট পর্বে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ২-১ গোলে হারিয়ে আরেক অঘটনের জন্ম দেয় দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়া ৫ : স্পেন ৩ (২০০২)
এক আসরেই রীতিমত দু’টি চমক দেখায় দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ ষোলর রাউন্ডে ইতালিকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখে তারা। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হলেও পেনাল্টিতে স্পেনকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে এশিয়ান ফুটবলের প্রতিনিধিরা। অপ্রত্যাশিত এই হারের ফলে বিদায় নিতে হয় ইউরোপের জায়ান্ট স্পেনকে।
আর্জেন্টিনা ০ : ক্যামেরুন ১ (১৯৯০)
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি মধ্য-আফ্রিকান দেশ ক্যামেরুনের সঙ্গে। মিলানের সানসিরোর ওই ম্যাচে ১-০ গোলে চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দারুণ এক চমক উপহার দিল ক্যামেরুন! তাও আবার ম্যাচটিতে ছিলেন ম্যারাডোনা, তাই লজ্জার মাত্রাটা বেশিই ছিল আর্জেন্টিনা ভক্তদের। খেলার ৬৬ মিনিটে হেডে ক্যামেরুনের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ওম্যাম বিয়েসিক। ইতালিতে আয়োজিত ওই আসরে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক-আউট পর্ব খেলে ক্যামেরুন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় ক্যামেরুন। রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা।
সেনেগাল ১: ফ্রান্স ০ (২০০২)
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি দারুণ এক চমক দেখায় দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে। উদ্বোধনী ম্যাচেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা! খেলার ৩০ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন সেন্টারব্যাক পাপা বুবা দিয়োপ। প্রথম ম্যাচেই হেরে খেই হারিয়ে ফেলে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বের তলানি থেকেই বিদায় নিতে হয় ওই বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। এমনকি বিশ্বকাপের ওই আসরে কোনো গোলও করতে পারেনি তারা।
ইতালি ০ : উত্তর কোরিয়া ১ (১৯৬৬)
২০০২ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলর রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩৬ বছর আগে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে অঘটনের শিকার হয়েছিল ইতালি। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ডে আয়োজিত ওই আসরে গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আজ্জুরিরা। ওই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। উত্তর কোরিয়ার একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন পাক ডু ইক। বিশ্বকাপের ওই আসরেই প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে এশিয়ান এই প্রতিনিধিরা।
ইংল্যান্ড ০ : যুক্তরাষ্ট্র ১ (১৯৫০)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম বিশ্বকাপ ছিল এটি। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ওই আসরেই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইংল্যান্ড। প্রথম আসরেই বেশ ভাল খেলেছিল তারা। প্রথম ম্যাচেই চিলিকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছিল ইংল্যান্ড। জয়ের প্রত্যাশা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও। কিন্তু বেলো হরিজমন্তে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে হতাশার জন্ম দেয় ইংলিশরা। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন জিয়েটজেনস। যদিও বিশ্বকাপের ওই আসর থেকে ইংল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র দু’টি দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়।
