আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২০:১৯
আমদানি বিকল্প ফসল (বিশেষ করে মসলা জাতীয় ফসল) উত্পাদনের জন্য রেয়াতি সুদহারে ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা পূরণ হবে না। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এসময়ে মোট ৭৩ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। অবশ্য আলোচ্য সময়ে বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ১২টি ব্যাংক এ খাতে কোন ঋণ বিতরণ করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৯১ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিদায়ী অর্থবছর মসলা চাষে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে মাত্র ৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৮১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর চলতি অর্থবছরের ১১ মাস শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ কোটি ৫৬ লাখে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী অর্থবছরের এগার মাস শেষে রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলো একত্রে ঋণ বিতরণ করেছে ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা তাদের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো থেকে মসলা চাষে ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে যেসব ব্যাংক এ খাতে কোন ঋণ বিতরণ করেনি তাদের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং দি সিটি ব্যাংক। এ সময়ে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো এ খাতে মাত্র এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। যদিও এসময়ে বিদেশি অধিকাংশ ব্যাংকই কোন ঋণ বিতরণ করেনি। ঋণ বিতরণ না করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে হাবিব ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ওরি ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। প্রসঙ্গত, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে ডাল, মসলা ও তৈলবীজ জাতীয় ফসল উত্পাদনের জন্যে দেয়া ঋণে ভর্তুকি দেয় সরকার। ডাল জাতীয় ফসল যেমন- মাষকলাই, মুগ, মশুর, খেসারি, ছোলা, মটর ও অড়হর চাষে এ ঋণ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া তৈলবীজ জাতীয় ফসল সরিষা, তিল, তিসি, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন এবং মসলা জাতীয় ফসল- হলুদ, আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও ধনিয়া ও ভুট্টা চাষে এ ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। যেখানে এ ঋণের বিপরীতে গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৪ শতাংশ হারে সুদ নেয়। ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সরকার ৬ শতাংশ ভর্তুকি দেয়। এতে ব্যাংক মোট ১০ শতাংশ সুদ পায়।