বানারীপাড়ার স্বর্ণালী আক্তার, তৃষা গাইন, দোলন আক্তার, সুমন, তমায়কা কাহার, ফয়সাল খান ও মাহফুজা যেন গরীবের জীর্ণ কুটিরে চাঁদের আলো। ঠিকমত তিন বেলা খেতে, প্রাইভেট ও ভাল পোশাক পরতে না পারলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, নিরলস অধ্যবসায়ের কারণে এবারের এসএসসিতে পেয়েছে জিপিএ-৫। তারা দারিদ্র্যতাকে জয় করে এ সাফল্য পেলেও ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কিত। দু’চোখে তাদের অমানিশার ঘোর অন্ধকার। বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশগ্রহণ করে স্বর্ণালী আক্তার, তৃষা গাইন ও দোলন আক্তার পেয়েছে জিপিএ-৫। উপজেলার কুন্দিহার গ্রামের টেম্পু চালক সোহরাব হোসেনের মেয়ে স্বর্ণালী আক্তার চিকিত্সক হয়ে মানব সেবায় অবদান রাখতে চান। বন্দর বাজারের পান বিক্রেতা তুলসী রঞ্জন গাইনের মেয়ে তৃষা গাইন প্রকৌশলী ও মহিষাপোতা গ্রামের কুটিয়াল মোঃ দুলাল হাওলাদারের মেয়ে দোলন আক্তার শিক্ষক হতে চান। বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে তমায়কা কাহার, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ফয়সাল খান ও মাহফুজা জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন দুলাল চন্দ্র কাহারের মেয়ে তমায়কা ভবিষ্যতে চিকিত্সক হতে চান। দক্ষিণ বাইশারী গ্রামের মোঃ মজিবর খানের ছেলে ফয়সাল খান ও উত্তর বাইশারী গ্রামের আঃ লতিফ হাওলাদারের মেয়ে মাহফুজা ব্যাংকার হতে চান। চাখারের চিরাপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ খলিফার ছেলে সুমন মিয়া সিএ হতে চান। চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পাওয়া মাকসুদা খানম টিয়া উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে ভবিষ্যতে শিক্ষক হয়ে ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চান। কিন্তু মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার ভবিষ্যত্ কণ্টকাকীর্ণ ও পিচ্ছিল পথ নিয়ে বাবা এমএলএসএস মোঃ মজিবর রহমানের দু’চোখে ঘোর অন্ধকার।
