বাজারে ফরমালিন মিশ্রিত খাবার সম্পর্কে নানা উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হবার পর অনেকে এখন মৌসুমী ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আম-লিচু, কাঁঠাল, আনারস ইত্যাদি মৌসুমী সুস্বাদু ফল আর খাচ্ছেন না। অনেকে ফোন করে জানতে চাচ্ছেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফলের রসের বোতল ও প্যাকেট পাওয়া যায় এসব নিরাপদ কিনা। বিষয়টি সত্যি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমী ফল যদি নিরাপদ না হয় তাহলে সেসব ফল দিয়ে তৈরি ফলের রস বা ফ্লুইট ডিংক নিরাপদ হবে কি করে। তবে এ ধরনের ফলের রস নিরাপদ দাবি করে অনেক ক্ষেত্রে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও যতক্ষণ পর্যন্ত এসব ফলের রসের বা শরবতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা হবে ততক্ষণ এসব নিরাপদ বলা যাবে না। আবার অনেকে ফোন করে জানতে চাচ্ছেন ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম জাতীয় পাউডার ও ফলের রস পান করবেন কি না। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ দেয়া খুবই কঠিন। তবে যারা প্রচণ্ড তাপদাহ বা আসন্ন রমজানে তাজা ফলের বিকল্প শরবত পান করতে চান তাদের উচিত হবে যা পান করবেন তার গুণগত মান যাচাই করে নেয়া। তবে আশার কথা ইদানিং দেশের একাধিক শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি পানিতে দ্রবণীয় লেবু ও কমলার স্বাদের ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম উত্পাদন করছেন। যেমন: ক্যাভিক সি, ক্যাভিক সি প্লাস, ভিটামিন সি ইত্যাদি। এসব নিঃসন্দেহে বলা যায় মানসম্মত এবং ফলের শরবতের বিকল্প হিসাবে পান করতে পারেন। একটি মাত্র ট্যাবলেট এক গ্লাস পানিতে মিশালে এক গ্লাস বিশুদ্ধ শরবত তৈরি হয়। তবে হাতে গোনা ২/১টি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কোম্পানিও বোতলজাত শরবত তৈরি করছে বলে দাবি করা হয়। তবে অখ্যাত কোন কোম্পানির ফলের রস জাতীয় শরবত পান করা মোটেও উচিত নয়।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
