এমনিই কি ‘সুপার মারিও’ নাম তার! জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে এর চাইতে ভাল কোন উপলক্ষ হয়তো সম্ভব ছিল না। গত সোমবার দীর্ঘদিনের বান্ধবী ফ্যানি নেগুইয়েশার সাথে বাগদানের ঘটনাকে বালোতেল্লি স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকেই দলকে জিতিয়ে। ইংল্যান্ড-ইতালি ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়া সেই গোলের পর বালোতেল্লি জানান, এই গোলটি শুধুই নেগুইয়েশার প্রতিই উত্সর্গ করতে চান তিনি।
তার প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ ছিল না কোনকালেই। তবে, মাঠের চাইতে মাঠের বাইরের ঘটনায় বেশিরভাগ সময় আলোচনায় আসায় এক সময় শঙ্কা জেগেছিল, শেষ পর্যন্ত কিনা অকালেই হারিয়ে যেতে হয় বালোতেল্লিকে। কিন্তু সমালোচকদের এই মতামতের সঙ্গে একেবারেই একমত ছিলেন না বালোতেল্লি। বিশ্বকাপের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইতালিকে চতুর্থ বিশ্বকাপ জেতাতে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। তখন বালোতেল্লির এই কথায় হয়তো মুখ টিপে হেসেছিলেন অনেকেই। তবে, দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারণী এক গোলে বালোতেল্লি আবারো প্রমাণ করলেন, কেবল মাঠের বাইরের নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েও খবরের শিরোনাম হতে জানেন তিনি।
তবে গোল উদযাপনের মতো ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনেও দারুণ পরিশীলিত আচরণই পাওয়া গেল এই স্ট্রাইকারের কাছ থেকে। জানালেন, নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল নয় বরং দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পেরেই খুশি তিনি, ‘এই ম্যাচটা নানা কারণেই কঠিন ছিল। আবহাওয়া ছিল আমাদের প্রতিকূলে। তাছাড়া দল হিসাবে দারুণ শক্তিশালী ছিল ইংল্যান্ড। তবে ইতালি এমন একটা দল যারা মাঠে যত সমস্যাই থাক শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যায়। এটা আমাদের দলের ক্ষেত্রে খুবই প্রযোজ্য। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে শেষ পর্যন্ত আমরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছি।’
প্রথমার্ধে ক্লদিও মার্কিসিওর দুর্দান্ত এক গোলে ইতালি এগিয়ে যাওয়ার পর, রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। এই গোল দুটির আগে পরে অবশ্য বেশ কয়েকবারই দূর থেকে লক্ষ্যভেদের চেষ্টা করেছিলেন বালোতেল্লি। সে যাত্রায় সফল না হলেও শেষ পর্যন্ত ইতালি গোলের দেখা পায় বালোতেল্লির হাত ধরেই। আন্তোনিও কানদ্রেভার দারুণ ক্রসকে অনেকটা লাফিয়ে উঠে জালে পৌঁছে দেন তিনি।
বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স খুব একটা আশা জাগানিয়া না হলেও মূল পর্বে ফেভারিটের মতো শুরু করতে পেরে উল্লসিত ইতালিকে শুরুতে এগিয়ে নেয়া মার্কিসিও, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে জয়ের মাধ্যমে শুরু করতে পারাটা। বিশেষ করে এমন একদিনে যখন ফুটবল খেলাটাই ছিল কঠিন। কখনো কখনো আমার এমনও মনে হয়েছে তাপের কারণে আমি বোধহয় ঝাপসা দেখছি। তবে এই দলটা প্রমাণ করেছে তারা মানসিকভাবে দুর্দান্ত শক্তিশালী। ম্যাচ শেষে প্রমাণ হয়েছে সেটাই।’
এদিকে দলের জয়ের অংশ হতে পেরে খুশি গোলরক্ষক সিরিগুও। জিয়াললুইজি বুফনের হঠাত্ চোটে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া এই প্যারিস সেন্ট জার্মেই খেলোয়াড় বলেন, ‘খবরটা (খেলার) শোনার সাথে সাথেই আমি কিছু ফোন কল এবং ম্যাসেজ পাই। এরপর নিজেকে শান্ত করতে আমাকে পরিবারের সাথে কথা বলতে হয়। বুফন খেলবেন না জেনেও নিজের খুশি লুকিয়ে রাখা আমার জন্য অসম্ভব ছিল। তবে তিনি যখন আমাকে বললেন যে তিনি খুব বেশি চোট পাননি এবং আমি সুযোগ পাওয়ায় তিনি খুশি, তখন আমার সত্যিই ভালো লাগছিল।’ দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে।
