নাইজেরিয়ার বিপক্ষে রক্ষণভাগই ভরসা ইরানের

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:২৮
অস্ট্রেলিয়া, জাপানের পর ব্রাজিল বিশ্বকাপে এশিয়ার আরেক দেশ ইরান মাঠে নামছে আজ। ‘এফ’ গ্রুপের দলটি প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। অ্যারেনা ডি বেইক্সাদায় অনুষ্ঠেয় এই লড়াইয়ে ইরানের বিপক্ষে সহজ জয় প্রত্যাশা করছে সুপার ঈগলরা। নাইজেরিয়াকে টেক্কা দেয়ার শক্তি অবশ্য ইরানেরও রয়েছে। রক্ষণভাগ তাদের অন্যতম শক্তি। এশিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ১০টি ম্যাচ খেলে মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে তারা। বাছাই পর্বের কঠিন পরীক্ষাকে ‘নরকের’ সঙ্গেই তুলনা করছেন ইরানের কোচ কার্লোস কুয়েরোজ, ‘বাছাই পর্বে আমরা রীতিমত নরক অতিক্রম করেছি।’ এবার স্বর্গ পাড়ি দেয়ার পালা পর্তুগিজ এ কোচের। তবে ইরান যত শক্তিশালীই হোক, প্রতিপক্ষকে একেবারে ছেড়ে দেয়ার দল নয় নাইজেরিয়া। আফ্রিকান নেশন্স কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শক্তিটা ব্রাজিল বিশ্বকাপেও দেখাতে চায় কোচ স্টিফেন কেসির শীষ্যরা। এবারের আসরে নিজেদের অতীতকে ছাড়িয়ে যেতে চাচ্ছে আফ্রিকার দেশটি। ১৯৯৪ এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোল পর্বে খেলেছিল তারা। এবার আরও একধাপ ভাল খেলার লক্ষ্য থাকছে তাদের। বিশ্বকাপ আসরে ইরানের অতীত তেমন সমৃদ্ধ নয়। এর আগে তিন আসর খেললেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও তাদের অতীত তেমন ভাল নয়। একবারই দল দু’টি মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের ওই লড়াইয়ে ১-০ গোলে সুপার ঈগলদের কাছে হারে ইরান। ইরানের আক্রমণভাগ বা মধ্যমাঠে প্রভাব দেখানোর শক্তি অন্য দলগুলোর তুলনায় ইরানের তেমন নেই। একেবারে খারাপও নয়। এবারের বিশ্বকাপের এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে এর প্রমাণ মেলে। বাছাই পর্বে ৩০ গোল করে ইরানই এশিয়ান অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোল করা দল। ইরানের রক্ষণভাগটা অনেক সমৃদ্ধ। বাছাই পর্বের মতো যথারীতি পেনাল্টি এরিয়া, কিংবা গোল পোস্টের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল নিরাপদ রাখতে পারলে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে চমকের জন্ম দিলেও দিতে পারে কুয়েরেজের দল। গত বিশ্বকাপে মোটেও ভাল করতে পারেনি নাইজেরিয়া। গ্রুপ পর্বের তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। চার বছর আগের বিশ্বকাপের ব্যর্থতা এবার ঘুচিয়ে ওঠতে চাইবে তারা। এই সময়ের মধ্যে দলকে বিভিন্ন দিক থেকে শাণিতও করেছেন কোচ কেসি। গত বছর আফ্রিকান ন্যাশন্স কাপ জিতে এর প্রমাণও দিয়েছে নাইজেরিয়া। কোচ হিসেবে অনেক কৌশলী কেসি। প্রতিপক্ষ বুঝে দল সাজান তিনি। সাধারণত তার কৌশল থাকে ৪-৩-৩ অথবা ৪-২-৩-১। তবে পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ৪-২-৪ কৌশলও গ্রহণ করেন এই নাইজেরিয়ান কোচ। পক্ষান্তরে ইরানের দক্ষ কোচ কুয়েরোজের কৌশল সবসময়ই রক্ষণাত্মক।