ড্যাপ নিয়ে বিপাকে আবাসন

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৪, ২১:২২
ইউরোপীয় পোশাক ক্রেতাদের জোট ‘বাংলাদেশ অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি বা অ্যাকর্ড’র কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রমের আওতায় পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুরের সফটেক্স নামের একটি গার্মেন্ট কারখানা। মিরপুরের যে ভবনে কারখানাটি ছিল সেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দেয়ায় পর কারখানাটি সাময়িক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় মালিকপক্ষ। এমনিভাবে ঢাকার বিভিন্ন ধরনের আড়াই হাজার শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বিবেচনা না করেই ‘অপরিকল্পিত’ ডিটেইলড্ এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) ঢাকার ২৭৭৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান নন-কনফার্মিং হিসেবে চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। শিল্প কারখানার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বেশকিছু আবাসন প্রকল্প সরিয়ে ফেলতে বলায় হাজার হাজার মানুষ তাদের প্লট ও ফ্ল্যাট না পাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। ওই সকল ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা বিনিয়োগ করে পরে সেখানে প্লট ও ফ্ল্যাট দিতে না পারলে আবাসন কম্পানিগুলোর দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কাও আছে। ১৯৯৫ সালে স্ট্র্যাকচারাল প্ল্যান হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) প্রণিত হয়। ওই পরিকল্পনায় যেসব এলাকাকে জলাভূমি হিসেবে ধরা হয়েছিল সেগুলোকে রক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা করেনি রাজউক। বরং ঢাকা মহানগরীতে ব্যাপকভাবে ভবন উঠেছে, নিচু এলাকা ভরাট করে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবন তোলার সময় মানুষকে বাধা না দিয়ে ২০১০ সালে এসে ড্যাপে সেগুলোকে জলাভূমি হিসেবে ঘোষণা করে তা উচ্ছেদ করার চেষ্টা কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৯৫ সালের কাঠামোগত পরিকল্পনায় কেরানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকাকে উপ-বন্যাপ্রবাহ এলাকা (সাব ফ্লাড ফ্লো জোন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ড্যাপে সেটাকে প্রধান বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই অবস্থা করা হয়েছে সাভার, বারিধারা, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। ড্যাপে সাভার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকাকে হাইভ্যালু এগ্রিকালচারাল ল্যান্ড ও নরসিংদীর বেলাব শিল্পাঞ্চলকে এগ্রিকালচারাল ল্যান্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোর জমিকে একতরফাভাবে বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এসব এলাকা এখন আর নিচু জমি নয়। সাধারণ মানুষ ও আবাসন কোম্পানিগুলো এখন তা ভরাট করে ভবন করে বসবাস করছে। ড্যাপ পর্যালোচনা কমিটি ইতিমধ্যে ১৬টি আবাসন প্রকল্পকে সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে ছয়টি সরকারি প্রকল্প। সরকারি প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় ২০০টির মত আবাসন প্রকল্পের কাজ চলছে। এদিকে কেরানীগঞ্জে রাজউকের নিজস্ব হাউজিং প্রকল্প ঝিলমিল আবাসিক এলাকাটি স্ট্র্যাকচারাল প্ল্যানে প্রধান বন্যাপ্রবাহ এলাকা এবং উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্প এলাকা জলাধার হিসেবে চিহ্নিত হলেও ড্যাপের রিভিউ কমিটি এগুলো সরিয়ে নেয়ার কথা বলেনি। অথচ এগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকাকে দেখানো হয়েছে জলাধার ও নিচু জমি। অন্যদিকে ঢালাওভাবে বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের জমিকে বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। গাবতলীর অদূরে আমিনবাজারে বেসরকারি একটি মডেল টাউনকে বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত ওই মডেল টাউনে অন্তত ১০ বছর আগেই প্লট বিক্রি করে বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়েছে। একইভাবে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর মৌজায় দীর্ঘদিন আগে গড়ে উঠেছে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্প। ওই এলাকা একসময় নিচু এলাকা হলেও পরে পুরো আবাসিক এলাকার রূপ পায়। হাউজিং প্রকল্পটির কারণে ওই এলাকার জমির দামও বেড়েছে বহুগুণ। ডিএমডিপিতে এসব প্রকল্পের কিছু এলাকা উপ-বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে উল্লেখ থাকলেও ড্যাপে সেটাকে প্রধান বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে।