সিরিজে সমতা ফেরাতে চান আল আমিনরা

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৪
আগের দিন বৃষ্টির পর খেলা শুরু হতেই মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট যেন বিশ্বের ভয়ঙ্করতম এক ‘টার্নিং উইকেট’-এ পরিণত হল! মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো আপাত নির্বিষ অফস্পিনারের পরপর দুটি ডেলিভারি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পরে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে চলে গেল! রাজ্জাকের মতো নিখুঁত বোলার বল নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন; অতিরিক্ত বাঁক নিয়ে বল বেরিয়ে যাচ্ছিল! হয়তো আবহাওয়া কোনো ভূমিকা রেখেছে বা রাখেনি। তবে প্রথম দিনের উইকেটের চরিত্র যে ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে ভাবাচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। আজকের ম্যাচে দুই পেসারের সঙ্গে আরেকজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে জিয়াকে না রেখে সেখানে বাড়তি স্পিনিং অলরাউন্ডার সোহাগ গাজীকে খেলানোর গুঞ্জনও শোনা গেল গতকাল। গতকাল অনুশীলন শেষে পেসার আল আমিন অবশ্য বলেন, বোলিং নিয়ে এই ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা এখনও তিনি জানেন না। তবে এটুকু জানেন যে, আজ তাদের জিততেই হবে। হ্যাঁ, আজ বাংলাদেশকে সিরিজের লড়াইয়ে টিকে থাকতে গেলে জিততেই হবে। আগের দিনই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেছেন, ‘আমরা এই ম্যাচটা হেরেছি গোটা বিশেক রান কম হওয়ায়। আমাদের অনেক ব্যাটসম্যান সেট হয়ে আউট হয়ে ফিরেছেন। এর মধ্যে এক-দুজন লম্বা ইনিংস খেলতে পারলে অন্যরকম হতে পারতো অবস্থা। এই মার্জিনাল এররটা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। সে ক্ষেত্রে আমরা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে লড়াইয়ে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী।’ আল আমিন অবশ্য কাল বলেন, যদি বৃষ্টি না আসতো তাহলে ঐ রানেও অন্যরকম ফলাফল, মানে নিজেদের জয় পাওয়া সম্ভব ছিল, ‘যদি ৫০ ওভার খেলা হতো তাহলে সিচুয়েশন অন্যরকমও হতে পারতো। ওরা শুরুটা খুব ভালো করছিল। আমরা যদি শুরুতে উইকেট পেতাম বা রান যদি আরো কম হতো যেহেতু ডিএলএ খেলা হয়েছে, তাহলে আমরা আরো ইতিবাচক হতে পারতাম।’ বোলার হিসেবে আল আমিনরা নিজেরা খারাপ করছিলেন, এমনও তার মনে হয়নি, ‘ওরা (ভারতীয় বোলাররা) আমাদের বিট করেছে, আমরাও বিট করেছি। প্রথম আধঘণ্টা বা একঘণ্টা উইকেটে হেল্প থাকে। আর অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি ৫০ ওভার। ওরাও ভালো বোলিং করেছে, আমরাও করেছি। হয়তোবা ওরা উইকেট নিতে পেরেছে আমরা পারিনি।’ প্রথম ম্যাচের পর পুরো বাংলাদেশ দলেরই সুরে এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তারা বারবার এখন বলছেন, এটা ভারতের দুর্বল দল নয়। গতকাল আল আমিনও সেটা বললেন, ‘দুর্বল দল বলবো না। ওরা আইপিএল খেলে এসেছে। ওখানে আন্তর্জাতিক ভালো ক্রিকেটাররা অংশগ্রহণ করে থাকে। ওরা হয়তো আন্তর্জাতিক ঐভাবে খেলেনি, দল হিসেবে ওরা অনেক ভালো খেলছে।’ তারপরও প্রথম ম্যাচে নিজেদের খারাপ করার একটা কারণ তিনি মনে করেন অনেকদিন পর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলা, ‘আমরা টি-টোয়েন্টি খেলার পর একটা বিসিএল গেম খেলেছি। তাহল হাতে গোনা কয়েকটা খেলোয়াড়, সবাই খেলতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে ওরা কিন্তু আইপিএলের মতো ভালো টুর্নামেন্ট খেলেছে। সেদিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। খুব বেশি বোলিংয়ে পরিবর্তন করা যায় না। পরিকল্পনা যেটা থাকে ইমপ্লিমেন্টেশন। আমরা যারা আছি যারা বোলিং করবো আশা করি ভালো করার চেষ্টা করবো।’ তবে কোনো অজুহাত দিয়েই পার পেতে চাচ্ছেন না আল আমিনরা। আজ যে কোনো মূল্যে লড়াইয়ে ফিরতে চান। আর সে জন্য বাকি দুটি ম্যাচই একসঙ্গে মাথায় নিচ্ছেন না বলে বললেন আল আমিন, ‘ইনশাল্লাহ আমরা তো চেষ্টা করবো। আমরা সামনের দুটো ম্যাচ নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা করছি না। সামনে যে ম্যাচটা আছে সেটাতে কামব্যাক করার চেষ্টা করবো।’