দৃশ্যত মানুষ হিসেবে যেটা করা উচিত তাই করেছেন সাকিব আল হাসান। স্ত্রী শিশিরকে উত্ত্যক্তকারীদের নিজ হাতে শাস্তি দিয়েছেন। সামাজিকভাবে কাজটি যেভাবেই দেখা হোক না কেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলা অবস্থায় ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে দর্শকের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোটা আইনের পরিপন্থী। ব্যাপারটাকে সেভাবেই দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আগের দিনই বিসিবির একাধিক পরিচালক বিষয়টা জানেন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, তারা শুনেছেন এরকম একটা ব্যাপার। তবে আসলে কী হয়েছে, সেটা খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করবেন না। আর সেই খতিয়ে দেখার ব্যাপারটি ভারতের বিপক্ষে চলমান সিরিজ শেষে হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এদিকে পুরো ব্যাপারটিতে নিজের বিব্রতকর অবস্থার কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি ঘটনার দিনের ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমিও শুনেছি। কিন্তু কী হয়েছে, পরিষ্কার জানি না। আমাকে জিজ্ঞেস করে কেউ ড্রেসিংরুম ছাড়েনি। আমি সে সময় বৃষ্টির পর ম্যাচের কী হবে, ম্যাচ পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত; এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।’
তবে সাকিবের নাম উল্লেখ না করেই মুশফিক বলেছেন, এরকম ঘটনা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত নয়। যদি দর্শকের আচরণ কখনো আপত্তিকর হয়, তারপরও ক্রিকেটারদের বিনীত থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার দলের কোনো ক্রিকেটার সেই উচিত কাজটা করতে না পারলে সেটাকে তিনি দলীয় ব্যর্থতা হিসেবেই দেখেন, ‘দর্শক যা-ই করুক, যত খারাপ কাজই করুন; আমাদের মাথা নিচু রাখতে হবে। সেটা না হলে তো অবশ্যই খারাপ। আর এ জন্য আমি ব্যক্তি একজন খেলোয়াড়ের মতো দলেরও দায় দেখি। কেউ এই নীতি অনুসরণ করতে না পারলে সেটা দলীয় ব্যর্থতাও বটে। আর সবচেয়ে বড় কথা এসব ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত দলই ভুক্তভোগী হয়।’
