ক্যাম্পাসে খেলা দেখা

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ১৯:১৩
‘হলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা আর বাড়িতে বসে খেলা দেখার মধ্যে অনেক ফারাক। হলে যেভাবে সবার সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা যায়, বাড়িতে তা কখনোই হয়ে ওঠে না’ সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাহাত এম এ তরুণ। ফুটবলপ্রেমী এই শিক্ষার্থী ব্রাজিলের সমর্থক। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দল নিয়ে আশাবাদী সে। নিজ দলের সমর্থনে তার দলের অন্য সমর্থকদের নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা আঁকা, জার্সি তৈরি, সমর্থকদের তালিকা তৈরি ইত্যাদি সব কাজের প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু খেলা শুরুর অপেক্ষায়। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে একই কাজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুধু এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়। প্রতিবার বিশ্বকাপ শুরুতে একই চিত্র দেখা মেলে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। বিশ্বকাপ শুরুর ১ মাস আগে থেকে চলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি। আবাসিক হলে গিয়ে নিজ দলের সমর্থকদের তালিকা করা, চাঁদা তুলে পতাকা তৈরি, জার্সি তৈরি, পতাকা অংকন ইত্যাদি। চলে বাকযুদ্ধ আর খুনসুটি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে চলে নানা মান-অভিমান। নিজ দলের জার্সি পরিধান করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ করতে দেখা গেছে রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবকে। এমনকি যথারীতি ক্লাসও করছে মেসিভক্ত এই শিক্ষার্থী। আর্জেন্টিনার দল এবার কাপ নিয়েই ঘরে ফিরবে এমন আশায় দিন গুনছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের সিফাত, তিশা আর অনিন্দিতা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফেরদৌসি, রানা আর তৃতীয় বর্ষের মাহির সমর্থনটা বিপরীত। ব্রাজিলের সমর্থক এসব শিক্ষার্থীকে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একসাথে ঘোরা আর আড্ডা দিতে দেখা যায়। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিল ফুটবলপ্রেমীরা। পছন্দের দেশ কিংবা খেলোয়াড়ের সম্ভাব্য পারফরমেন্স নিয়ে গোটা দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে সর্বত্রই চলছে আলোচনার ঝড়। চায়ের দোকান, ক্যাম্পাস, গেস্টরুম, হলের রুমে আলোচনার বিষয় একটিই, তা হলো— ফুটবল বিশ্বকাপ। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে দীর্ঘ ক্লাস পরীক্ষার ঘূর্ণিপাকে ফুটবল বিশ্বকাপই বিনোদনের একমাত্র উত্স। ফুটবলপ্রেমীরা উচ্ছ্বসিত বিশ্বকাপের মাতাল হাওয়ায়। বিশ্বকাপ উন্মাদনার হাওয়া লেগেছে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এর নানা চিত্রের দেখা মেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস ঘুরলে। বিশ্বকাপ কি সত্যিই ব্রাজিলে না বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে? এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়ায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরলে। ক্লাসের ফাঁকে, আড্ডায়ও আলোচনার বিষয় এখন ফুটবল বিশ্বকাপ-২০১৪। আলোচনায় একপর্যায় দুই দলের সমর্থকরা জড়িয়ে পড়েন বাকযুদ্ধে। কারো কাছে মেসি প্রিয়। কারো কাছে রোনালডো। আবার কেউ কেউ নেইমারের অন্ধ ভক্ত। নিজ দলের পারফরমেন্স নিয়ে চলে খুনসুটি। সমর্থন ভারি করতে ব্যস্ত সারাক্ষণ। সমর্থকদের মধ্যে জার্সি উপহার হিসেবে দেয়া, শরীরে ট্যাটু আঁকা। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ছাত্রীরা। ছাত্রীদের হলগুলোর চিত্র একই। ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও পতাকা আঁকা থেকে শুরু করে সব কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখার চিন্তাটা মাথায় চেপে আছে শিক্ষার্থীদের। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপের মধ্যেই থাকছে গ্রীষ্মের ছুটি। ১৫ মে থেকে আমার ছুটি। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখব বলে বাড়ি যাওয়া হয়নি। ‘টিএসসিতে সবার সঙ্গে একত্রে খেলা দেখার মজাটাই আলাদা’— বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবিব হাছান তুষার। একই বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম যোগ করে বলেন, ‘হলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা আর বাড়িতে বসে খেলা দেখার মধ্যে অনেক ফারাক। হলে যেভাবে সবার সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা যায়, বাড়িতে তা কখনোই হয়ে ওঠে না।’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র অনুপ জানান, ক্যাম্পাসে খেলা দেখার আদর্শ স্থান টিএসসি। সবাই মিলে খেলা দেখার পাশাপাশি এখানে অনেক মজাও করা যায়। ছবি: রেজা চৌধুরী