গানের জাদুকর ওয়াহিদ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ১৯:১৪
বন্ধুটির মন খারাপ কিংবা জন্মদিন। দামি কোন দোকান থেকে দামি একটা গিফট এনে তুলে দেবেন তার হাতে? অনেকেই হয়তো তাই ভাবছেন কিন্তু আমরা প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদের দোকানে গিয়ে খুশি কিনে আনতে হয় না, আমরা দৌড়াই পিয়াল ভাইয়ার কাছে। ক্যাম্পাসে কোনো অনুষ্ঠান হলে গান শোনানোর জন্য যার ডাক সবচেয়ে বেশি পড়ে তিনি ওয়াহিদ আহসান। পরিবার ও বন্ধুদের কাছে অবশ্য তিনি পিয়াল নামে পরিচিত। আমাদের মন খারাপের দিনে কিংবা খুব আনন্দের মুহূর্তে আমরা তাকেই খুঁজি, তার অসাধারণ গায়কীর কাছে আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলো আমরা জমা করে রাখি! স্কুলের যে দুষ্ট ছেলেটিকে শুধুমাত্র দুষ্টুমির জন্য স্যার কখনোই জাতীয় সঙ্গীত গাইতে দিতেন না বলে যে ছেলেটি মন খারাপ করতো সেই ছেলেটিই এখন তার গান দিয়ে সবার মন ভালো করে দেয়। ওয়াহিদ যখন ‘ওরে নীল দরিয়া’ কিংবা ‘ইশক ভি দিয়া রে মাউলা’ বলে গান শুরু করে আমরা তখন বাকরুদ্ধ হয়ে শুনি। যতবার শুনি ততবার আমরা মুগ্ধ হই। প্রতিবার নতুনভাবে মুগ্ধ হই। জন্ম, বেড়ে ওঠা সব কিছুই এই ঢাকাতেই। থাকেন মিরপুর কাজিপাড়া। ২০০৬ সালে ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে কলেজ অফ ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা) থেকে এইচএসসি পাস করেন ওয়াহিদ। বর্তমানে তিনি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ওয়াহিদের মুখেই শোনা গেল, ছোটবেলা থেকে সংগীত শেখার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা। সংগীতে ওয়াহিদের প্রথম হাতেখড়ি হয় চারুকলার একজন শিক্ষকের কাছে। উচ্চাঙ্গ সংগীত, লালন গীতি, রবীন্দ্র সংগীতসহ আধুনিক কিংবা ব্যান্ড যে কোন সংগীতেই রয়েছে তার অসাধারণ দখল। গানের বাইরে গিটার আর তবলাতে রয়েছে তার বিশেষ দখল। ২০০৯ সালে প্রথম গিটার হাতে নেন তারপর আর থামেননি। ২০১০ সালে নিজেদের একটা ব্যান্ড করেন, ‘অ্যাকোস্টকানস’ নামে। ‘প্রার্থনা’ নামে একটা মিক্সড অ্যালবাম বাজারে আসছে খুব শিঘ্রই। এই অ্যালবামে ‘প্রার্থনা’, ‘ব্যাক টু সাম ডেজ’ এবং ‘মনের ভেতর’ এই তিনটি গান থাকছে ওয়াহিদের। তিনটি গানের সুরকারও তিনি নিজে। সাধারণত সফট রক, মেলো রক, ক্লাসিক্যাল, সেমি ক্লাসিক্যাল গান করে থাকেন। দেশি বিদেশি প্রচুর গায়কের এবং ব্যান্ডের গান শোনেন। বিভিন্ন ভাষায় গান করাতেও তিনি পারদর্শী। ক্যাম্পাসে গানের আড্ডা সম্পর্কে ওয়াহিদ বলেন, ‘সাধারণত বিকালের দিকে অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস শেষ হয়ে যায়। এ সময় আমরা বন্ধুরা মিলে গানের টিউন করতে শুরু করলে মুহূর্তে ২০-৩০ জন জড়ো হয়ে যায়।