গণহত্যা নিয়ে পড়ার প্রাসঙ্গিকতা

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ১৯:১৪
একটি দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে দেশটির বিদ্যায়তনিক (একাডেমিক) লেখাপড়ার সংযোগ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণহত্যা বা জেনোসাইড নিয়ে এখন পর্যন্ত বিশেষায়িত কোনো লেখাপড়া-গবেষণার সূচনা হয়নি। এরকম প্রেক্ষাপটেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এ বছরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব জেনোসাইড এন্ড জাস্টিস-এর উদ্যোগে গত মে মাসে জেনোসাইড এন্ড জাস্টিস স্টাডিজ নামে চার সপ্তাহের একটি সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে এবং এর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তা সফলভাবে সম্পন্নও করেছে। এই কোর্সের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব জেনোসাইড এন্ড জাস্টিসের পরিচালক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, আমাদের লক্ষ্য একঝাঁক তরুণ গবেষক, লেখক ও একাডেমিশিয়ান তৈরি করা যারা গণহত্যা নিয়ে সত্য উদঘাটন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যাতে বিষয়টির ওপর কাজ করতে আগ্রহী হয় তার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হতে পারে এই কোর্সের মাধ্যমে। এরকম একটি মহতী উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোর্সটির প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরু হয় গত ৮মে। এতে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন বিষয়ের আইনগত ব্যাখ্যার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে এগুলোর তুলানামূলক বিশ্লেষণও করা হয়। এসব বিষয়ের ওপর যারা আলোচনা করেন তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশনের কনভেনার ডা. এম এ হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব জেনোসাইড এন্ড জাস্টিসের পরিচালক মফিদুল হক, কোর্সের সমন্বয়কারী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মে ওয়ারা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান তদন্তকারী এম এ হান্নান এবং প্রসিকিউটর জিয়াদ আল-মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ।