বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ১৯:১৮
এবারের ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করার গৌরব বোধ করতে পারেন মার্সেলো। ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১১ মিনিটেই গোলটি করেন তিনি। কিন্তু মার্সেলোর এই গোল দলের জন্য তেমন কোনো ফায়দা বয়ে আনতে পারেনি। গোলটি আত্মঘাতী বলে শুরুতেই পিছিয়ে যায় ব্রাজিল। বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের ঘটনা এই প্রথম নয়। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা এর আগের আসরগুলোতেও ঘটেছে। তবে এর মধ্যে সবকটি ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে কলম্বিয়ার আন্দে এস্কোবারের ঘটনাটি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করে দেশে ফেরার পর তাকে গুলিতে জীবন দিতে হয়েছিল।  মেক্সিকোর ম্যানুয়েল রোসেস বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আত্মঘাতী গোল করেন। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে গোলটি করেন ম্যানুয়েল।  বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে তিনটি আসরে (১৯৫৪, ১৯৯৮ ও ২০০৬)।  ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম আত্মঘাতী গোলটি হয়েছে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেন্টার-ব্যাক কার্লোস গ্যামেরার ওই আত্মঘাতী গোলে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারে প্যারাগুয়ে।  বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আত্মঘাতী গোলটি কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দে স এস্কোবারের করা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তার আত্মঘাতী গোলে হারতে কলম্বিয়াকে। এই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। ওই আত্মঘাতী গোলের জের ধরেই আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান এস্কোবার।  ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মার্সেলোর গোলটি বিশ্বকাপে করা কোনো ব্রাজিলিয়ানের প্রথম আত্মঘাতী গোল। গত তিন বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল ক্রিশ্চিয়ান জ্যাকেরদো (ইতালি) জার্মানিতে আয়োজিত ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। চতুর্থবার সোনালি ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা। আসরের গ্রুপ পর্বে ক্রিশ্চিয়ান জাকেরদোর গোলে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আজ্জুরিদের। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের ক্রস ভালভাবে সামাল দিতে পারেননি সেন্টার-ব্যাক জাকেরদো। তার ভুল শটেই গোল হজম করে ইতালি। কার্লোস পুয়োল (স্পেন) ফুটবল ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। কিন্তু সেরা এই ডিফেন্ডারও ২০০২ সালের বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন। গ্রুপ পর্বের খেলায় দশম মিনিটেই পুয়োলের আত্মঘাতী গোলে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে স্পেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিয়ার্ডরা। জর্জ কোস্তা (পর্তুগাল) ও জেফ অ্যাগুস (যুক্তরাষ্ট্র) এটাও ২০০২ সালের বিশ্বকাপের ঘটনা। ম্যাচটিতে দু’টি আত্মঘাতী গোলের ঘটনা ঘটে। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের মুখোমুখি হয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপের এক খেলায় দু’টি আত্মঘাতী গোল সম্ভবত এটাই প্রথম। খেলার ২৯ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন পর্তুগালের কোস্টা। খেলার ৭১ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগুস। গ্রুপ পর্বের এই লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জয়ী হয় যুক্তরাষ্ট্র। কার্লোস গ্যামেরা (প্যারাগুয়ে) ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ দল ছিল ইংল্যান্ড। গ্রুপের অন্যান্য প্রতিযোগী সুইডেন, প্যারাগুয়ে এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। কিন্তু গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচটা মোটেও নজর কাড়তে পারেনি। খেলা শুরু হওয়ার তৃতীয় মিনিটেই আত্মঘাতী গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন প্যারাগুয়ের গ্যামেরা। এই আত্মঘাতী গোলেই ম্যাচটিতে জয় পায় ইংলিশরা।