‘রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত আবৃত্তি উত্সব’ পালন করেছে স্বরচিত্র আবৃত্তি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে সংগঠনটির ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে আয়োজিত এ উত্সবের উদ্বোধন করেন স্বরচিত্রের সভাপতি মাহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে মাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী আশরাফুল আলম, লায়লা আফরোজ, শিমুল মুস্তাফা, ইকবাল খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আবৃত্তি সংগঠনের আবৃত্তিশিল্পীরা আবৃত্তি করেন। স্বরচিত্রের আবৃত্তিশিল্পীদের মধ্যে আবৃত্তি করেন শফিকুল ইসলাম, তাসমি চৌধুরী, তামান্না ডেইজী, ফারহানা আক্তার মিষ্টি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বরচিত্রের সভাপতি মাহিদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের সমাজনীতি-রাজনীতি-অর্থনীতি ও বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে চিত্র এখন প্রতিফলিত এই সকল কদর্যতা-অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রেমের-মানবতার-মুক্তির জয়গান কণ্ঠে ধারণ করতে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত আবৃত্তি উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাঙালির সামষ্টিক ও সামগ্রিক মুক্তি-চেতনায় যেমন একইভাবে ব্যক্তিক মন ও মননের বিকাশে আমাদের জন্য সিঞ্চিত রয়েছে অশেষ প্রেরণা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত কাব্য সম্ভার জুড়ে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কাব্য-সাধনায় দেশ-প্রেমবর্জিত অসাড়-চেতনাহীন স্ব-সময় ও সমাজকেই শুধু পরস্ফুিটিত করে তোলেননি অধিকন্তু ভবিষ্যত্-দ্রষ্টা এই কবি অনাগত সময় ও বিবেকবর্জিত মানুষের কুটিলতা উপলদ্ধি করে সংক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন তার কাব্যের প্রতিটি ছত্রে ও চরণে।
সুকান্ত ভট্টাচার্য তার কাব্যের প্রতিটি পংক্তির সাহসী উচ্চারণে আমাদের সাবলীল আর স্বতঃস্ফূর্ত হতে শেখায়, শেখায় স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাটি ও মানুষকে ভালবেসে মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে। মহান এই তিন কবির প্রত্যেকটি কবিতার প্রতিটি স্তবক ও প্রতিটি পংক্তিতে বিধৃত রয়েছে মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসা আর মানুষের অধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র যা একজন নবীন আবৃত্তিশিল্পী ও নতুন প্রজন্মকে আত্ম-অনুসন্ধানে আর মানবিক গুণাবলী অর্জনে প্রয়াসী করে তোলে।
