সালাম মুর্শেদীর কলাম

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাঁচা-মরার লড়াই আজ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২১:৫১
আজ চিলির বিরুদ্ধে মাঠে যদি সামর্থ্যের পূর্ণ অনুবাদ স্পেন করতে না পারে, আমি শঙ্কিত ২০০২’র ফ্রান্স কিংবা গত আসরের ইতালির ভাগ্যই হয়তো বরণ করতে হচ্ছে তাদের। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হবার ফলে আজ মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটি তাদের জন্য পরিণত হয়েছে অনেকটা বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। আজ ড্র করলে কিংবা হেরে গেলেও হয়তো কাগজে কলমে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একটা সুযোগ থাকছে। তবে, সেটা এতটাই কঠিন হবে যে, আমি নিশ্চিত ইকার ক্যাসিয়াসের দল সেই দিকে হাঁটতে চাইবে না। তার চাইতে বরং অল আউট আক্রমণে চিলিকে পরাস্ত করার দিকেই লক্ষ্য স্থির করবেন তারা। ব্রাজিলকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার পরের আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় ফ্রান্সকে। এর আট বছর পরে একই ভাগ্য বরণ করে চারবারের শিরোপা জয়ী ইতালি। আমি কি কারণে অতীত ইতিহাস ঘাটছি সেটা অনুমান করা কঠিন নয়। প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ায় এবার একই আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে স্পেনকে নিয়েও। শুধু হার নয়, আমাকে ভাবাচ্ছে হারের ব্যবধানটাও। তাছাড়া টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে এ ধরনের হার খেলোয়াড়দের মনোজগতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে বাধ্য। তবে এটাও সত্যি এখান থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে স্পেনের। চাইলে তারা অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে গত বিশ্বকাপ থেকেও। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস লেখে তারা। জিতে নেয় প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। চিলির বাঁধা টপকে নক আউট রাউন্ডের পথে এগিয়ে যেতে আজ সে ধরনের একটা পারফরম্যান্সই দেখাতে হবে স্পেনকে। এটা এমন একটা ম্যাচ যে ম্যাচে নিজেদের আক্রমণ সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে চাইবে স্পেন। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই তাই আক্রমণাত্মক ফুটবল আশা করছি আমি। কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক একজন স্ট্রাইকারের বদলে দু’জনকে খেলালে কিংবা ফলস নাইন পজিশনে কাউকে ব্যবহার করলেও অবাক হব না আমি। অন্যদিকে, চিলির খেলাটা হবে অনেকটা কৌশল নির্ভর। আমার অনুমান এই ম্যাচে জয় কিংবা পারফরম্যান্সের চাইতে ফলনির্ভর খেলা খেলতে চাইবে তারা। কারণ, প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এর মধ্যে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা। আজ স্পেনের বিরুদ্ধে ড্র করতে পারলে এই গ্রুপ থেকে স্পেনকে টপকে নকআউট রাউন্ডে চলে যাওয়াও কঠিন নয় তাদের জন্য। তবে আমার মনে হয় না, স্পেনের মতো আক্রমণ নির্ভর দলের বিরুদ্ধে তাদের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল খুব বেশি কাজে আসবে। স্পেন যদি খেলার শুরুতেই একটা গোল করে ফেলতে পারে, সেক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই আক্রমণে যেতে হবে চিলিকেও। সেক্ষেত্রে আসল লাভটা হবে ফুটবল প্রেমীদের। জাভি-ইনিয়েস্তা-ফ্যাব্রিগাসদের পাসিং ফুটবলের বিপরীতে অ্যালেক্সিজ সানচেজদের পাল্টা আক্রমণে দারুণ জমবে খেলা। আগের ম্যাচে হাস্যকর এক ভুল করে সমালোচিত হওয়া স্পেন এ ম্যাচে ইকার ক্যাসিয়াসকে গোলপোস্টের নিচে রাখবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন অনেকে। তবে আমার বিশ্বাস, এত সহজে ক্যাসিয়াসের উপর থেকে আস্থা হারাবেন না দেল বস্ক। কারণ, একটি ম্যাচ দিয়ে আপনি কখনোই একজন খেলোয়াড়কে মাপতে পারেন না। একটি ভুল কখনোই ক্যাসিয়াসের সারা জীবনের অর্জনকে মুছে ফেলতে পারবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এমন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলছি যার আছে একটি বিশ্বকাপ এবং দুটি ইউরো আসরে দলকে শিরোপা জেতানোর রেকর্ড। আর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অজস্র অর্জন তো থাকছেই। সুতরাং, আজও ক্যাসিয়াসকেই আশা করছি আমি। এদিকে, রাতের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে লড়বে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ডাচদের বিরুদ্ধে তাদের কোন সুযোগই দেখছি না আমি। একটি দল যখন টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ওভাবে গুড়িয়ে দেয়, তখন তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা থাকে অনেক বেশি। তখন, দুর্বল-সবল সব ধরনের প্রতিপক্ষকেই ধরাশায়ী করতে চাইবে তারা। নেদারল্যান্ডসের অবস্থাটা ঠিক তেমনই। আরিয়েন রোবেন-রবিন ফন পার্সিদের তীব্র আক্রমণ থেকে বাঁচতে সকারুজরা রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেবে বলে মনে হয় আমার। আর, ক্যামেরুন-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে আমার বাজি ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাদের খেলা নি:সন্দেহে মন কেড়েছে সবার। অন্যদিকে, ক্যামেরুনের খেলা দেখে আমার মনে হয়েছে ক্লান্তিতে ভুগছে তারা। আজ হয়তো খেলতে পারছেন না তাদের অধিনায়ক এবং সবচেয়ে বড় তারকা স্যামুয়েল ইতোও। সবমিলে তাদের কিছুটা ভঙ্গুরই মনে হচ্ছে আমার।