না ফেরার দেশে

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২০:০০
সোহেল হাবিব কুমারখালি সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজি ভক্ত একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল শিল্পী আবদুল করিম শাহ। গত ১০ জুন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস সংলগ্ন ক্যানাল পাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। আবদুল করিম শাহ ১৯২৯ সালের ১২ জুলাই কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা অঞ্জনগাছী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ঝুমুর আলী জোয়াদ্দার ও মাতা কুসুম নেছা। আবদুল করিম শাহের উস্তাদ ছিলেন নিতাই শাহ ও গানের গুরু ছিলেন বিহাল শাহ। বাউল শিল্পী আবদুল করিম শাহের শেষ ইচ্ছানুযায়ী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের ভক্ত আকমল ফকিরের ধামে তাঁকে সমাহিত করা হয়। কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুল করিম শাহ খুব ছোট বেলায় ফকির লালন সাঁইজির মতে দীক্ষা নেন। এরপর আমৃত্যু তিনি ফকির লালন সাঁইজির সুর সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। লালনের গানই ছিল তাঁর ধ্যান জ্ঞান। তিনি লালন সংগীতের আদি সুর ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তীব্র আর্থিক সংকট থাকলেও তার সুর সাধনায় ব্যাঘাত ঘটেনি কখনও। এসব কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। একুশে পদক ছাড়াও বাউল আবদুল করিম শাহ ১৫টি পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালের ৪ নভেম্বর চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ কুমারখালির ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়িতে ‘মনের মানুষ’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো উত্সবে বাউল শিল্পী আব্দুল করিম শাহকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন একাডেমিতে তিনি বেশ কয়েক বছর শিক্ষক হিসেবে নবীন শিল্পীদের ক্লাস নিয়েছেন।