জাপান ও গ্রীস জয়ের বিকল্পহীন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের নাটালে ‘সি’ গ্রুপের খেলায় মুখোমুখি হচ্ছে। জাপানের মূল স্ট্রাইকার কেইসুকে হোন্ডা অবশ্য খেলাটির প্রাক্কালে তাদের নিজস্ব স্টাইল আগ্রাসী হয়ে খেলার উপর জোর দেন।
বিশ্বকাপে এই প্রথম দল দুটি মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে ২০০৫ সালের কনফেডারেশন্স কাপে তাদের একমাত্র লড়াইয়ে গ্রীসকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল জাপান।
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ায় জাপান এখন ‘সি’ গ্রুপে তৃতীয়স্থানের দল। পরাজয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে ইউরোপের দল গ্রীস। দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে নাতালে অ্যারেনা দস দুনাসে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটিতে জয় প্রত্যাশা করছে দু’দলই।
নিজেদের প্রথম খেলায় হেরে গেলেও গ্রীসের তুলনায় জাপানের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভাল ছিল। আইভরি কোস্টের কাছে দুটি গোল হজম করলেও কেইসুকে হোন্ডা জাপানকে ১৬ মিনিটেই এগিয়ে দিয়েছিলেন। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় ব্লু সামুরাইরা। কিন্তু দিদিয়ের দ্রগবা মাঠে নামলে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আইভরি কোস্ট। তার নৈপুণ্যে উইলফ্রাইড বনি এবং গারভিনহো গোল করলে জাপানের হার নিশ্চিত করে।
হারলেও বল দখলে বেশ এগিয়ে ছিল আলবার্তো জাচ্ছেরোনির দল। এ প্রসঙ্গে হোন্ডা বলেন, ‘আমি মনে করি আইভরিকোস্টের কাছে হেরে যাওয়ার কিছু কারণ ছিল। আমার মনে হয়েছে আমরা প্রতিপক্ষকে বেশিই সমীহ করেছি।’ গ্রীসের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের মতোই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে জানিয়ে মিডফিল্ডার হোন্ডা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আক্রমণাত্মক খেলাটা এতো দিন তৈরি করেছি। খেলার এই ধরনটায় আমাদের বিশ্বাস আছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলই আমাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। আইভরি কোস্ট দলে যেমন কিছু অসাধারণ খেলোয়াড় আছে, তেমনি গ্রীস দলেও বেশ ক’জন ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। তাই প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের সমীহ করছি আমরা। তবে তাদের বিপক্ষে আরো ভাল খেলতে চাইবো আমরা।’ গ্রীসের বিপক্ষে হেরে গেলে জাপানকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে। আপাতত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের চিন্তা করছেন না বলে জানালেন হোন্ডা, ‘ব্যাপারটি নিয়ে আমি এখনো ভাবছি না। আমি এখন গ্রীসের বিপক্ষে জয়ের চিন্তা করছি এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’
তবে জাপানের সেন্টারব্যাক ইয়োশিদা গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হেরে যাওয়ার পর বলেন, ‘আমরা প্রথম ম্যাচে হেরে গেছি। তাই আমরা হতাশ। এখনো আমাদের হাতে দুটি ম্যাচ অবশিষ্ট রয়েছে। পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।’ গ্রীস সাধারণত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে গিয়ে কলম্বিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হার মানতে হয়েছে তাদের। এই হারে গ্রীসের অবস্থান ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কারণ জানালেন গ্রীসের গোল কিপার জর্জিওস সামারাস, ‘কলম্বিয়ার বিপক্ষে আমরা জয়ের জন্য নেমেছিলাম। জাপানের বিপক্ষেও আমরা খেলার ধরনে পরিবর্তন আনবো না। কেননা জাপানের বিপক্ষে আমাদের অবশ্যই জিততে হবে।’
