‘অন্যায় করেছি, শাস্তি তো হবেই’

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২১:৫৩
মানুষ হিসেবে খুবই আবেগী তিনি। ফিফটি, সেঞ্চুরি করলে দেখার মতো উদযাপন করতেন, উইকেট পেলে ফেটে পড়তেন বুনো উল্লাসে। কষ্টে কাঁদেন, আনন্দে হাসেন। এই তো যেদিন সংবাদ মাধ্যমের কাছে যেচে সব দায় স্বীকার করলেন, সেদিনও কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু গতকাল তার চোখে আর পানি ছিল না, ছিল না কণ্ঠে কোনো বাষ্পরুদ্ধতা। ফোন পেয়ে ইস্পাতদৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘শাস্তির মেয়াদ আমার পছন্দ বা অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু শাস্তি তো হবেই। বিচার হয়েছে, বিচারকরা যা ভালো বুঝেছেন; তাই শাস্তি দিয়েছেন। আমি অনেক বড় অন্যায় করেছি, ফলে শাস্তি তো হবেই।’ হ্যাঁ, শাস্তি নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই, অনুযোগ নেই মোহাম্মদ আশরাফুলের। যদিও শাস্তির মেয়াদ নিয়ে একটু ভিন্নমত আছে তার। সেটাও আইনজীবীর সঙ্গে কথা না বলে কিছু বলতে চাইলেন না। বললেন, আইনজীবীরা সঠিক মনে করলে তিনি আপিল করবেন। অবশ্য আশরাফুলের মতো শাস্তিকে এতো সহজভাবে মেনে নেননি ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স কর্মকর্তা শিহাব চৌধুরী। তার বাবা সেলিম চৌধুরী বললেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আইনজীবীরা ইতিমধ্যে নিয়মমাফিক আপিল করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সময়মতোই আপিল করবো আমরা।’ একই কথা বাকি দুই শাস্তিপ্রাপ্ত লু ভিনসেন্ট ও কৌশল লুকোরুয়াচ্চির ক্ষেত্রেও সত্যি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দীর্ঘ শুনানির পর গতকাল ট্রাইবুন্যালের বিচারে দোষীদের শাস্তি ঘোষণা হয়েছে। এই রায়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, দেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাধর ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত আশরাফুল ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া শিহাব চৌধুরী জিসান ১০ বছর, লু ভিনসেন্ট ৩ বছর ও লুকোরুয়াচ্চি ১৮ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট তো আর এদের নিয়ে ভাবিত নয়। তারা ভাবিত বছর দেড়েক আগেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণ বলে বিবেচিত আশরাফুলের শাস্তি নিয়ে। আশরাফুলভক্তদের অনেক আফসোস করার সুযোগ রয়েছে। ভেতরের খবর অনুযায়ী আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশন (আকসু) তার বিপক্ষে কোনো নিরেট প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তাদের সম্বল ছিল কেবল আশরাফুলের নিজেরই স্বীকারোক্তি। এই সাবেক তারকা ব্যাটসম্যানের সামনে সুযোগ ছিল ট্রাইবুন্যালে গিয়ে আগের স্বীকারোক্তি অস্বীকার করা। আশরাফুল তা করেননি। তিনি বলেছেন, আমি অন্যায় করেছি, আমি তো জানি। আরেক দফা প্রতারণা কেন করবো! আশরাফুল গতকালও অনেকটা এই ভঙ্গিতেই বললেন, ‘যে অন্যায় করেছি, তার শাস্তি আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।’ এখন তার আশা শুধু আরেকবার ক্রিকেটে ফিরে আসার। সে সুযোগ ট্রাইবুন্যালের রায়ে রয়েছে। আশরাফুল এই সময়ে আইসিসি’র ফিক্সিং ও দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিলে তার সাজা ৩ বছর কমে ৫ বছরে নেমে আসবে। যার এক বছর ইতিমধ্যে তিনি কাটিয়ে ফেলেছেন। ফলে কার্যত সবকিছু ঠিক থাকলে আর চার বছর পরই আশরাফুল আবার ক্রিকেটে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। কী করবেন, আবার ফিরে? আশরাফুল এবার একটু হাসলেন, ‘আমি তো ক্রিকেটই পারি শুধু। ক্রিকেটেই কিছু করতে চাই। জীবনে অনেক লড়াই করেছি। এই লড়াইটাও জিততে চাই।’