দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের একটিকে হয়তো আজ বিদায় নিতে হচ্ছে টুর্নামেন্ট থেকে। কারণ, ইংল্যান্ড-উরুগুয়ে ম্যাচে আজ যে হারবে তার জন্য নকআউট রাউন্ডের পথটা কঠিন হবে। কাগজে-কলমে হয়তো সম্ভাবনা সামান্য থাকবে, তবে সেটা না থাকার মতোই। তাই আমি বলবো, টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাই আজ দেখতে যাচ্ছি আমরা। একই কারণে, লড়াইটাও হবে হাড্ডাহাড্ডি।
গত মঙ্গলবার রাতে বেলজিয়াম-আলজেরিয়া খেলার মধ্যদিয়ে সব দলের একটি করে ম্যাচ হয়ে গেছে। তবে, আমার মনে হয় বিশ্বকাপের আসল উত্তাপটা টের পাওয়া যাবে আজ থেকেই। কারণ, একটি করে ম্যাচ হয়ে যাওয়ায় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে পরবর্তী রাউন্ডে উত্তরণের সমীকরণ। আমি নিশ্চিত মাঠের খেলায়ও বড় ভূমিকা রাখবে ঐ সমীকরণগুলো। বড় দলগুলো চাইবে এই রাউন্ডে ভাল ফল করে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ কোন প্রতিপক্ষকে পেতে। আবার তুলনামূলক বিচারে দুর্বল দলগুলোর থাকবে অঘটন ঘটিয়ে বড় কোন দলকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় করে দেয়ার।
বিশ্বকাপের মজাটা এখানেই। এই টুর্নামেন্টের মহত্ত্ব এখানেই যে, আপনি কোন দলকেই উড়িয়ে দিতে পারবেন না। তাদের পক্ষে হয়তো শিরোপা জেতা সম্ভব নয়, কিন্তু একটি দু’টি অঘটন ঘটিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগাল কিংবা গত বিশ্বকাপে ঘানার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে ফুটবলভক্তদের।
এবার ঠিক একই কাজ করতে পারে কোস্টারিকা। অথচ, ইংল্যান্ড-ইতালি-উরুগুয়ের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভিড়ে প্রথমে তাদের কথা প্রায় ভাবছিলই না কেউ। কিন্তু, প্রথম ম্যাচে উরুগুয়েকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপের হিসাব নিকাশ শুরুতেই উল্টে দিয়েছে তারা। ফলে, দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট উরুগুয়ের জন্য এই ম্যাচটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁচা মরার লড়াই। যদিও, নকআউট রাউন্ডে যেতে হলে হয়তো ইতালির বিরুদ্ধে পরের ম্যাচটাও জিততে হবে তাদের।
সেদিক থেকে পরিস্থিতি কিছুটা পক্ষে ইংল্যান্ডের। কারণ, ইতালির বিরুদ্ধে হারলেও ব্যবধানটা ছিল কম, ২-১। যেখানে উরুগুয়ের ক্ষেত্রে সেটা ছিল ৩-১। তিন পয়েন্ট খোয়ানোর পাশাপাশি গোল ব্যবধানটাও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দিয়েগো ফোরলান-এডিনসন কাভানির দলের জন্য। কারণ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই গ্রুপ থেকে কোয়ালিফাই করার ক্ষেত্রে গোল ব্যবধান বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সব কিছু হিসাব করে আমার মনে হচ্ছে, উরুগুয়ে অলআউট আক্রমণ খেলতে যাচ্ছে আজ। কারণ, তাদের হারানোর নেই কিছুই।
ইংল্যান্ড উরুগুয়ের চাইতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও, রক্ষণাত্মক হবার সুযোগ নেই তাদেরও। তাছাড়া তাদের দলের সবচেয়ে শক্তিমত্তার জায়গাটা আক্রমণভাগ। দুই স্ট্রাইকার রাহিম স্টার্লিং, ড্যানিয়েল স্টারিজের ফর্মও বেশ আশা জাগানিয়া। এই দুজনকে বলের যোগান দিতে ঠিক পেছনেই আছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ওয়েইন রুনি। রাইট উইংয়ের অগ্রপ্রান্তে খেলবেন রুনির ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ড্যানি ওয়েলব্যাক। আক্রমণ-রক্ষণে সেতুবন্ধন গড়ার কাজটি থাকবে যথারীতি স্টিফেন জেরার্ডের উপর। লিভারপুল ও জাতীয় দলের হয়ে জেরার্ডের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ার প্রমাণ করছে, সেই কাজটা ভালই পারেন তিনি।
রক্ষণেও আছেন এক ঝাঁক তারকা। জ্যাজিয়েলকা, কাহিলদের মতো খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ইংলিশদের রক্ষণভাগ বেশ জমাট। তবে, তাদের কঠিন এক পরীক্ষাই দিতে হবে আজ। কারণ মাঠের উল্টো প্রান্তে আছেন ফোরলান, কাভানিদের মতো তারকা।
সুতরাং, আমি বলবো দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটা দেখার জন্য পাঠক মাঝ রাত পর্যন্ত জেগে থাকলেও তাকে হতাশ হতে হবে না। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে উপভোগ্য একটা ম্যাচই দেখতে যাচ্ছি আমরা।
এদিকে, রাতের প্রথম ম্যাচে খেলবে কলম্বিয়া-আইভরি কোস্ট। দুই দলই প্রথম খেলায় জয় পাওয়ায়, আজ হয়তো কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে পারে দুই দলই। তবে, একটা গোল যে কোন ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে। প্রথমেই কোন দল গোল করে ফেললে অন্য দলটি আক্রমণাত্মক খেলতে বাধ্য হবে।
একজন এশিয়ান হিসাবে রাতের শেষ ম্যাচে আমার সমর্থন জাপানের পক্ষে হলেও শক্তিমত্তা বিচারে সেখানে এগিয়ে থাকবে গ্রীসই। প্রথম ম্যাচে গ্রীস হেরে গেলেও তাদের খেলা দেখে শক্তিশালী দলই মনে হয়েছে আমার।
বিশ্বকাপ শেষ কোয়েন্ত্রাওয়ের
জার্মানীর বিপক্ষে ৪-০ গোলে হারের ম্যাচেই আসে বিপদটা। ম্যাচ চলাকালীন সময়েই স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাওকে। এবার সেই উরুর ইনজুরির কারণেই আর চলমান বিশ্বকাপে দেখা যাবে না পর্তুগিজ এই ফুলব্যাককে। গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে গত সোমবার সালভাদোরে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় পর্তুগাল। সেই ম্যাচের পরই রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়ের পায়ে স্ক্যান করা হয়। স্ক্যান রিপোর্ট দেখে দলের খেলোয়াড়রা নিশ্চিত করেছেন যে বিশ্বকাপে আর খেলা হবে না কোয়েন্ত্রাওয়ের। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ডাক্তারি রিপোর্ট থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, বিশ্বকাপের আগামী ম্যাচগুলোর আগে ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাওয়ের ফিট হয়ে ওঠার কোন সম্ভাবনা নেই। আর আমরাও ওকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাই না।’ মানাউসে আগামী রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। ইউরোপিয়ান দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে আগের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ার কারণে খেলতে পারবেন না পেপে। এর সাথে এবার যুক্ত হল কোয়েন্ত্রাওয়ের ইনজুরি। এরপর ২৬ জুন গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্রাসিলিয়ায় পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ঘানা।
