জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল : ফেলাইনি

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২১:৫৫
পিছিয়ে থেকেও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে শেষ পর্যন্ত জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ বলে বিবেচিত বেলজিয়াম। দুই বদলি খেলোয়াড় মারুয়েন ফেলাইনি এবং ড্রাইস মার্টেন্সের দুই গোলে গত মঙ্গলবার রাতে বেলো হরাইজোন্তোর এস্তেদিও মিনেইরোতে তারা আলজেরিয়াকে হারিয়েছে ২-১ গোলে। তবে ম্যাচে বেলজিয়ামের পারফরম্যান্স বিচারে এই জয়কে প্রাপ্য মানছেন, বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরানো ফেলাইনি। শুরুতেই সোফিয়ান ফেগুইলির পেনাল্টি গোলে খেলায় পিছিয়ে পড়া বেলজিয়ামকে সমতায় ফিরতে অপেক্ষা করতে হয় ৭০ মিনিট পর্যন্ত। বদলি খেলোয়াড় হিসাবে মাঠে নামা ফেলাইনির এই গোলের পর খেলা শেষের মিনিট দশেক আগে মার্টেন্সের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম। ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলেও প্রাপ্ত সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতে পেরে দারুণ খুশি ফেলাইনি। ঝাঁকড়া চুলের এই তারকা বলেন, ‘আমি খুশি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরে। আমরা আক্রমণ করলেও সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছিল। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পেরেছি। খেলা শেষে তাই আমার মনে হয়েছে, এই জয় প্রাপ্যই ছিল আমাদের।’ তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেললেও প্রথমার্ধে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন ফেলাইনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা জিতলেও আমাদের শুরুটা ছিল নার্ভাস। প্রথমার্ধে আমাদের খেলাটা ভাল ছিল না। তবে আমাদের জন্য জরুরী ছিল আবার নার্ভাস হয়ে না পড়া এবং সঠিক কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া। শেষ পর্যন্ত সেটাই কাজে এসেছে।’ কোচ উইলমর্টের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল সেটা তো প্রমাণিতই। কারণ, বেলজিয়ামের পক্ষে দুটি গোলই এসেছে দুই বদলি খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। ৬৬ মিনিটে মাঠে নামা ফেলাইনির ঐ গোলের পর দ্বিতীয় গোলদাতা মার্টেন্সও মাঠে নামেন দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচ শেষে কোচ মার্ক উইলমর্ট জানালেন, বদলি খেলোয়াড়দের উপর পূর্ণ আস্থাই ছিলো তার। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম আজকের ম্যাচে বদলি বেঞ্চই আমাকে পার্থক্য গড়ে দিবে। আর ম্যাচে তাই হয়েছে।’ দুই সুপারসাবের দুই গোলের আগে ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল আলজেরিয়াই। ম্যাচের ২৫ মিনিটে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ২২ তম স্থানে থাকা আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে দিয়েছিল সোফিয়ানে ফেগুইলি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মুসা ডেমবেলের স্থানে ফেলাইনি এবং হতাশাজনক পারফরমেন্স দেখানো রোমেলু লুকাকুর স্থানে দিভোক ওরিগিকে নামিয়ে উইলমটস দলের চেহারাই পাল্টে দেন। তাদের বিপরীতে অনেকটা তারুণ্যনির্ভর আলজেরিয়ার আক্রমণভাগ কার্যত কোন সুযোগই সৃষ্টি করতে পারেনি। ২১ মিনিটে বেলজিয়ান মিডফিল্ডার অ্যাক্সেল উইটসেল দূরপাল্লার শটে গোলরক্ষক রেইস এম’বোলহিকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন। এর মিনিটখানেক পরে ফেগুলি আফ্রিকানদের পক্ষে ডেডলক ভাঙ্গেন। ফাউজি গুলামের ক্রস থেকে ডি বক্সের মধ্যে ফেগুলি বল ধরার চেষ্টা করলে বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ইয়ান ভারটেনগেন ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারী রডরিগুয়েজ। একইসাথে হলুদ কার্ড দেখান টটেনহ্যাম হটস্পারের খেলোয়াড়টিকে। স্পট কিক থেকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবোট কোরটোয়িসকে বোকা বানান ফেগুলি। এটি ছিল ১৯৮৬ সালে নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডাজামেল জিদানের গোলের পরে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার প্রথম গোল। এর আগে তারা ৫০৬ মিনিট গোলবিহীন ছিল। বিশ্বকাপের মিনিটের হিসেবে বলিভিয়ার ৫১৭ মিনিট গোল না করার যে রেকর্ড রয়েছে তার থেকে ১২ মিনিট কম। এক গোলে পিছিয়ে থাকাই যেন পিছিয়ে থাকা বেলজিয়ামকে জাগিয়ে তোলে। একের পর এক বলের পজিশন নিজেদের করে নিয়ে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। যদিও গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছিল না। সে কারণে দূরপাল্লার শটের উপরেই নির্ভর করছিল তারা। কিছুটা দায় অবশ্য দুই তারকা ফরোয়ার্ড লুকাকু এবং হ্যাজার্ডের উপরেও বর্তায়। প্রথম দল হিসাবে ব্রাজিল বিশ্বকাপের টিকেট কাটা বেলজিয়ামের দুঃখ ঘোসে ৭০ মিনিটে। মিডফিল্ডার ডে ব্রুয়েনের ক্রসে ফেলাইনি মাঠে ছুঁইয়ে তাদের সমতায় ফেরানোর ১০ মিনিট পরে মার্টেন্স করেন দলের দ্বিতীয় গোল। দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে স্ট্রাইকার ইডেন হ্যাজার্ড এই নাপোলি মিডফিল্ডারকে বল বাড়িয়ে দিলে শক্তিশালী শটে আলজেরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ২০০২ সালের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের পরে এটাই বেলজিয়ামের প্রথম বড় কোন টুর্নামেন্ট। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল খেলেছিল যা এখন পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ সাফল্য। -বাসস