ইংরেজি সাহিত্যের অবহেলিত কবি থিয়েডর ওয়াটস
৬ জুন ছিল বিখ্যাত সাহিত্যিক থিয়েডর ওয়াটস দান্তের ৭০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি লন্ডনের ভিক্টোরিয়া যুগের শেষ দিকের কবি ছিলেন। অবাক হওয়ার মতো—জীবদ্দশায় তিনি যেমন ছিলেন অবহেলিত, ঠিক তেমনি মৃত্যুর পরও তিনি মাতৃভূমিতে প্রাপ্য মর্যাদা পাননি। আর এ কারণে তাঁর কোনো কবিতাই ‘অক্সফোর্ড বুক অব ইংলিশ ভার্স’-এ স্থান পায়নি। অথচ লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যপক ক্যথরিন ম্যক্সওয়েল বলেন, তাঁর উপন্যাস ‘আইলউইন’ এ পর্যন্ত লক্ষাধিকের বেশি বিক্রি হয়েছে। কারণ, এতে তিনি অসাধারণভাবে ইহুদিদের কল্পকাহিনি, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, সম্মোহনময় প্রেমের জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেছেন। আর এটি ধ্রুপদি সাহিত্য হিসেবে এখনো প্রকাশিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এও বলা যায়, উপন্যাসটিতে জয়নাবাদের অভিশপ্ত জীবনের বাস্তবতা ডন ব্রাউনের উপন্যাসের চেয়ে অনেক উঁচু সাহিত্যমানের। ধীরে ধীরে তিনি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন বলে সমালোচকরা মনে করছেন।
সফল সাহিত্যিক চার্চিল
পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক রাজনীতিবিদই আত্মজীবনী লিখেছেন। তাদের কেউ কেউ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানও রেখেছেন। অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে তাঁর প্রতিদিনকার কর্মজীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছেন। পৃথিবীতে তা আজও ইতিহাস হিসেবে সমাদৃত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টল চার্চিল-এর আত্মজীবনী সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বলা হয় চার্চিল একাই তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। চার্চিল ১৯৫৩ সালে আত্মজীবনী লিখে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। যদিও তিনি মধ্যমানের লেখক, কিন্তু ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা ও আত্মজীবনীর শৈল্পিক বর্ণনা ভঙ্গি ও সাহিত্যিমানের কারণে তা আজও পৃথিবীর ইতিহাসে অমর। এ কারণে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সাহিত্যিক জোনাথন রোস তাঁর গবেষণাধর্মী বই ‘দ্য লিটারারি চার্চিল অথোর, রিডার, অ্যকটর’-এ বলেন, ‘চার্চিল কলমের মাধ্যমে আমাদের সামনে জীবন্ত ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যলয়ে সংরক্ষিত তাঁর আসবাবপত্রের আটটি বক্সের মধ্যে একটি বক্স সম্পূর্ণ সাহিত্যচর্চানির্ভর পাণ্ডুলিপিতে ভরপুর।... চার্চিল মনে করতেন, রাজনীতি ও সাহিত্য হচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারে পরস্পর পরিপূরক প্রধান দুই দিক। রাজনীতি জীবনে প্রবেশের পূর্বেই তিনি সাহিত্যচর্চা করতেন।’
অনন্য উপন্যাস ‘লস্ট অব ওয়ার্ড’
এডওয়ার্ড সেন্ট আইবনের পাঁচ খণ্ডে রচিত ‘পেট্রিক মলরেস’ উপন্যাসের সিরিজ রচনা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০১২ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর অসংখ্যবার তা পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। বিশেষ করে এর ‘লস্ট অব ওয়ার্ড’-এ মূর্তি ও ভাস্কর্যের কথোপকথন, শরীর শীতল হয়ে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, কমিকসের মতো অ্যাকশন এবং অনন্দও এর অনন্যতার কারণ। বইটি ডেভিট ফস্টারের শিকার বিষয়ক উপন্যাস, অ্যান্থনি পাওয়েলের আমেরিকান উচ্চবিত্তের সমাজজীবন ও চার্লস ডিকেন্সের শিশুতোষ গল্পের মতো পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। সমালোচকরা মনে করেন, ‘লস্ট ফর ওয়ার্ড’ খণ্ডটি অন্য ধরনের কাহিনি। এ উপন্যাস শুরু হয়েছে এক ট্রাকচালকের আত্মকাহিনি দিয়ে। যাতে কখনো হতাশ রাজনীতিবিদ, আত্মগরিমায় ভোগা অভিনেতা ও অক্সফোর্ড গ্র্যজুয়েটের করুণ চিত্র প্রাধান্য পেয়েছে। সমালোচকরা বলেন, এ উপন্যাস পাঠে রাজনীতি সর্ম্পকে অজ্ঞ ব্যক্তিও রাজনীতি বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠবেন।
গ্রন্থনা ও অনুবাদ :শামস আরেফিন
