শিশুরা ফুলের মত। তারা পিতা-মাতার চক্ষু শীতল করার নিয়ামক। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা-মা ভুলে যান জগতের সকল দুঃখ-ব্যথা যাতনা। সন্তানের মুখে হাসি দেখলে বাবা-মায়ের হূদয়ে আনন্দের হিল্লোল প্রবাহিত হয়। আর সন্তানের চোখে পানি দেখলে বাবা মায়ের কষ্টের সীমা থাকে না। যার কারণে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য হেন কাজ নেই যা বাবা-মা না করে থাকেন। সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ নেই। এক কথায় সন্তানের জন্য বাবা-মা সব কিছু করতে পারেন। কিন্তু একটি বিষয়ে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অর্থাত্ সব কিছু করা হলেও তাদেরকে নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা বা আখেরকাতমুখী শিক্ষায় গড়ে তোলা হচ্ছে না। আমাদের প্রিয়নবী (স.) শিশুদেরকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। তাদেরকে আদর করতেন, ছালাম দিতেন। ভদ্রতা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেছেন-কুল্লু মাউলুদুন ইউলাদু আলাল ফিতরা’ অর্থাত্ প্রত্যেক মানব শিশু ইসলামী আদর্শের ওপর জন্মগ্রহণ করে। তাই সে মুসলমানের ঘরে হোক, হিন্দুর ঘরে হোক, বৌদ্ধের ঘরে হোক, খ্রিস্টানের ঘরে হোক, ইহুদীর ঘরে হোক। কিন্তু তার পিতা-মাতা পরিবার-পরিজন তাকে যেদিকে নিয়ে যায় সেদিকে সে চলে যায়। রসূল (স.) বলেছেন, তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বছর বয়স হতেই নামাজের প্রশিক্ষণ দাও। কেননা শিশুবেলা থেকেই তার মধ্যে যখন নামাজের অভ্যাস তৈরি হবে তখন থেকেই সে সত্ ও চরিত্রবান রূপে বেড়ে উঠবে। যার মাধ্যমে ঐ শিশু বড় হয়ে কোনদিনও কোন ধরনের অনৈতিক কাজে জড়াবে না। পক্ষান্তরে আমরা যদি শিশুদেরকে প্রকৃত অর্থে নৈতিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হই তাহলে সমাজে ভালো মানুষ তৈরি হবে না। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের বাবা-মা মুরুব্বিরা কবি গোলাম মোস্তফা বিরচিত মোস্তফা চরিত হাতে তুলে দিতেন। হাজী মোহাম্মদ মহসিন, নবী রসূল সাহাবীদের জীবনী বই পড়তে দিতেন। তাদের কাহিনী নিয়ে গল্প করতেন। তাছাড়া আমরা স্কুলে আদর্শলিপি নামে একটি বই পড়তাম। যেখানে লেখা ছিল সদা সত্য কথা বলিবে, মিথ্যা বলা মহাপাপ, সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। এসব বাক্যগুলো আবৃত্তি করায় শিশু মনে কোমলতার ছাপ পড়তো। আপনি আপনার বাচ্চাকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ান তাতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু পাশাপাশি এই সমস্ত
নৈতিকতার শিক্ষা সম্বলিত বইও সঙ্গে থাকতে হবে। এতে শিশু নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী চরিত্রবান হয়ে বড় হয়ে উঠবে। আর তাতে পরিবারেও শান্তির ফোয়ারা প্রবাহিত হবে। বাচ্চারা যা দেখে তাই শেখে। সে ছোটবেলা হতে তার বাবা মাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তারা কি করে কেমন আচরণ করে সবই তার মধ্যে অনুরণিত হতে থাকে। সেই কারণে প্রথমত, মাকে নীতি নৈতিকতার আবহে চলতে হবে। মা ভালো হলে তার শিশুও ভালো হবে, নেপোলিয়ন বলেছিলেন-give me a good mother give you a good Nation-তোমরা আমাকে একটি সুন্দর মা দাও আমি তোমাদেরকে একটি সুন্দর জাতি দান করবো। উল্লেখ্য যে, আধুনিকতার সঙ্গে ইসলামের কোন বিরোধ নেই। আমরা ছোটবেলা দেখেছি, আমাদের মায়েরা-বোনেরা আজান হলেই মাথার কাপড় ঠিক করে নিতেন, ঘোমটাটা সামনে টেনে দিতেন। বাচ্চারা হৈ চৈ করলে তাদেরকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতেন। তারা আজানের প্রতি সম্মান করতেন। রেডিওর সাউন্ড পর্যন্ত বন্ধ করে দিতেন। আমাদের পিতা-মাতারা ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়ে কুরআন পাঠ না করলে সকালে নাস্তা দিতেন না। যার কারণে সকাল বেলা ঘরে ঘরে কুরআন তেলাওয়াতের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতো। এই শিক্ষা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে আজকের শিশুরা আগামীদিনের সত্ ও সুনাগরিক হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করে পরিবার সমাজ ও জাতির জন্য কল্যাণকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
