স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অবসান

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ১৯:৪২
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তারা। সঙ্গে ফেভারিটের তকমা। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপে এর ছিটে ফোঁটাও প্রমাণ রাখল না স্পেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে হারার পর, চিলির কাছে ২-০ গোলে হার!! এর যোগফল এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের শীষ্যরা; পতন ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জেতা স্পেন সম্রাজ্যের। প্রশ্নবিদ্ধ ‘টিকিটাকা’ কৌশল! নেদারল্যান্ডসের কাছে হারার পরও আশা টিকেছিল স্পেনের। সে ক্ষেত্রে চিলির বিপক্ষে জয়টা অবধারিত ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু বিধিবাম। পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ক্যাসিয়াস, জাভি, কোস্তারা। চিলির বিপক্ষে দু’টি গোল হজম করার মধ্যদিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘন্টা বেগে গেল তাদের। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটা এখন নিছক আনুষ্ঠানিকতা। এই পরাজয় স্পেনকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইতালি, ব্রাজিল ও ফ্রান্সের সঙ্গে। এর আগে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসে ইতালি ১৯৫০ ও ২০১০, ব্রাজিল ১৯৬৬ ও ফ্রান্স ২০০২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। দলের এমন বাজে পারফরম্যান্সে হতবিহ্বল কোচ দেল বস্ক, ‘ আমাদের কোনো ক্ষমা নেই। আমাদের সবারই ভাল করার প্রচেষ্টা ছিল। ভাল পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু মনে হয়েছে কোথায় যেন আমাদের কী অভাব আছে। খেলায় আমরা জ্বলে উঠতে পারছি না। এই প্রথম আমাদের নত হতে হচ্ছে।’ শুধু কোচ দেল বস্ক নন, স্পেনের অসহায় পরাজয়ে সমালোচনা হচ্ছে অধিনায়ক গোল কিপার ইকার ক্যাসিয়াসেরও। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যাচ্ছে তাই পারফরম্যান্স দেখানোর পর চিলির বিপক্ষেও ভাল খেলতে পারেননি ৩৩ বছর বয়সী এই গোল কিপার। এবারের বিশ্বকাপে স্পেন দলের অধিকাংশের বয়স তিরিশের এর কাছাকাছি বা এর ওপরে। অনেকে স্পেন দলকে ‘বুড়োদের’ দল বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য বয়সকে দায়ী করতে রাজি নন অধিনায়ক ক্যাসিয়াস, ‘প্রকৃত সত্য এই যে, আমাদের দলে বেশক’জন খেলোয়াড় রয়েছে যাদের বয়স তিরিশ। তবে এটা কোনো অজুহাত নয়।’ টানা দু’টি ম্যাচেই বাজে পারফরম্যান্স দেখানোয় স্পেন দলে ক্যাসিয়াসের ভবিষ্যত্ শঙ্কায় পড়েছে। এ ব্যাপারে ক্যাসিয়াস বলেন, ‘আমি জানি না এই ম্যাচ দু’টিই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ কি-না। আমি জানি না। দেখি কী হয়। এটা সম্পূর্ণ কোচের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কোচ যেই সিদ্ধান্তই নেবেন আমরা তাতে সম্মান জানাবো।’ এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ভরাডুবির মধ্যদিয়ে বিশ্ব ফুটবলে কী স্পেন যুগের অবসান ঘটল? জবাবে ক্যাসিয়াস বলেন, ‘এটা কী একটি যুুগের অবসানের ইঙ্গিত? আমি বল্বো এ ব্যাপারে কথা বলার সময় এটা নয়। যা ঘটেছে এর মধ্যে আমাদের প্রতিপক্ষগুলোরও ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে আমরা খুবই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’ দলের পরাজয়ের ভার খেলোয়াড়রাই নিচ্ছে বলে জানালেন অধিনায়ক ক্যাসিয়াস, ‘এর জন্য আমরাই দায়ী। এই পারফরম্যান্সে অন্য কারো চেয়ে আমরাই বেশি দুঃখ পেয়েছি। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কিছু বলার নেই। ভাগ্যও আমাদের সহায় ছিল না। দু’টি ম্যাচেই হেরে গিয়েছি।’ সবাই যখন বিশ্ব ফুটবলে স্পেন আধিপত্যের অবসানের কথা বলছেন, তখন নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন ডিফেন্ডার সার্জিও র্যামোস, ‘আমাদের জাতীয় দলের জন্য এটা খুব কঠিন সময়। তবে সত্যিই আমাদের যুগের অবসান ঘটেছে কি-না এটা বলা কঠিন। কেননা এই দলটিই গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই দলটি দিয়েই আমরা ইতিহাস গড়েছি। এটা কেউ ভুলে যেতে পারবে না।’