কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে রবিন ফন পার্সি দুই গোল করেছেন তো, আরিয়েন রোবেনও করলেন দুই গোল! সেরা দুই স্ট্রাইকারের চোখ ধাঁধান নৈপুণ্যে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় নিয়ে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তাদের নৈপুণ্য অব্যাহত থাকল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও। যদিও গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় লড়াইয়ে সকারুদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে বেশ ভুগতে হয়েছে গত আসরের রানার্স-আপদের। অস্ট্রেলিয়ার টিম কাহিলের গোলে ১-১ গোলের সমতা দিয়ে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। তাতে কী? যে দলে পার্সি ও রোবেনের মতো স্ট্রাইকার রয়েছে তারা কী এত সহজে হার মানবে? তাই হল। যথারীতি জ্বলে উঠলেন পার্সি ও রোবেন। তাদের নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নেদারল্যান্ডস এখন শেষ ষোলোর সুঘ্রাণ পাচ্ছে। পার্সি-রোবেনের নৈপুণ্যে ভক্তরা মেতে উঠেছে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। টুইট বার্তায় যোগ দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও, ‘আমি আজ একটি বিষয় শিখতে পেরেছি। সেটা হল- রবিন ফন পার্সি দারুণ এক ফিনিসার। একই সঙ্গে অসাধারণ ফুটবল খেলেও সে।’
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরুটা দারুণ উদযাপন করছেন ম্যানইউর স্ট্রাইকার পার্সি নিজেও। তবে এখনই সন্তুষ্টির ঢেঁকুর ফেলতে চান না তিনি, ‘বিশ্বকাপকে আমরা ভালভাবেই স্বাগত জানিয়েছি। তবে মনে রাখতে হবে যে, বিশ্বকাপ বিশ্বের সেরা একটি টুর্নামেন্ট। সুতরাং সফল হতে হলে এখানে কঠোর লড়াই করতে হবে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোকেও গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। বিশ্বকাপে শুরুটা আমরা উপভোগ করছি। আমরা এখন পরবর্তী রাউন্ডের একেবারে নিকটে। যেটা হয়তো অনেকে ধারণাই করেননি।’
দলের সূচনাটা উদযাপন করছেন আরিয়েন বোরেনও। নিজের নৈপুণ্যের চেয়ে দলের সাফল্যটা্ই বড় করে দেখছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইটা আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ ছিল। তালিকায় এখন আমাদের পয়েন্ট সবচেয়ে বেশি। গোল ব্যবধানও পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। স্পেনের বিপক্ষেও আমরা অনেকগুলো গোল পেয়েছি। এবারের বিশ্বকাপে আমরা অনেকগুলো দর্শনীয় গোল দেখেছি। গোলগুলো সবাই উদযাপন করেছে। বিশেষ করে গোলগুলো দেখে দর্শকরা অনেক মজা পেয়েছে।’ দলের পারফরম্যান্সে রীতিমত মুগ্ধ নেদারল্যান্ডসের কোচ লুইস ফন গাল। তবে দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কৌশল নিয়ে তেমন কিছু বলতে চান না তিনি, ‘আমি যদি বলি, বিশ্বকাপে এটাই আমাদের সেরা আক্রমণ। তাহলে দেখা যাবে পরবর্তী ম্যাচে প্রতিপক্ষ আমাদের আটকিয়ে দিতে চাইবে। অনুপ্রেরণা পেয়ে যাবে।’
স্ট্রাইকার পার্সি ও রোবেনের প্রশংসা করে এই ডাচ কোচ বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে আমরা অসাধারণ স্ট্রাইকার পেয়েছি। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, বিশ্বকাপের বাছাই পর্বেও তারা দারুণ খেলেছে। তাদের সুবাদে আমরা অনেক গোল পাচ্ছি। তারা ডাচ ফুটবলের অন্যতম অংশ। এটা আমি বিশ্বাস করি। পার্সির কথা না বললেই নয়। এরই মধ্যে তিনটি গোল করে ফেলেছে সে। দুই ম্যাচ থেকে এই পরিমাণ গোল সত্যিই অসাধারণ। তাছাড়া তার গোলগুলোও দৃষ্টিনন্দন ছিল। দর্শকরা পার্সির গোলগুলো অনেক উদযাপন করেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের প্রথমার্ধের খেলায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে জানালেন ম্যানইউর কোচ হতে যাওয়া ফন গাল, ‘প্রথমার্ধে আমরা অসচেতন ছিলাম। অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছি। খুব বেশি ছোট শটের ফুটবল খেলেছি। এই সময়টায় বড় পাসের ফুটবল খেললে ফরোয়ার্ডদের সুযোগ করে দিতে পারতাম আমরা। খেলার এই ধরনে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের।’ গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডস চিলির মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে স্ট্রাইকার পার্সিকে। ফলে লড়াইটিতে পার্সি নৈপুণ্য দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন ভক্তরা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাড়তি দায়িত্ব থাকবে রোবেনের ওপর। এই ফরোয়ার্ড চিলির বিপক্ষেও নৈপুণ্য অব্যাহত রাখতে পারলে ব্যাক্তিগত নৈপুণ্যে সতীর্থ রোবেনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পাবেন রোবেন।
