২০০৮ সাল থেকে স্পেন যে বিশ্ব কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিল, তার পেছনে নায়ক আপনি অনেককেই খুঁজে বের করতে পারবেন। ক্যাসিয়াস, রামোস, পুওল, ভিয়া। কিন্তু আসল জাদুকর যদি বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে দুই ‘মিডফিল্ড ম্যাজিশিয়ান’ জাভি ও ইনিয়েস্তার কথা। গত লা লিগা, স্প্যানিশ লিগ থেকে শুরু করে এই দুই জাদুকরের জাদু এই বিশ্বকাপে যেভাবে ব্যর্থ হল, তাতে এখন প্রশ্নটা উঠেই গেল—জাভি, ইনিয়েস্তার জাদুও কী শেষ!
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে যেভাবে গোল হজম করেছে তাতে লজ্জায় পড়েছেন স্পেনের নাগরিকরা। স্পেনের ফুটবল রূপকথা যারা লিখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম সেরা দুই তারকা ইনিয়েস্তা এবং জাভি এবারই হয়তো বিশ্বকাপ থেকে হারিয়ে যেতে পারেন। এই জুটি নিয়ে কোনো আলোচনা নেই রিওতে। যাদের হাত ধরে স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তাদের হাতেই নাকি লজ্জা পেতে হচ্ছে। আরো বেশি কথা হচ্ছে কারণ এই ব্রাজিলে ১৯৫০ বিশ্বকাপ ফুটবলে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল। সেই মাঠেই গতবারের ফাইনালিস্টরা স্পেনকে ঘরের ভেতরে আটকে দিয়েছে। আর গতকাল যেন স্প্যানিশ রূপকথার কফিনে পেরেক ঠুকে দিলো চিলি। এই শেষ পেরেক ঠোকাটা মাঠের বাইরে বসেই দেখলেন স্প্যানিশ কিংবদন্তী জাভি; একাদশে ঠাঁই-ই পেলেন না। আর ইনিয়েস্তা নামলেও এই করুণ দৃশ্যের সাক্ষী হওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।
স্পেন ফুটবলের রূপকথার গল্পটা শুরু হয়েছিল ইউরো কাপ জয় করে সেটা ২০০৮ সালে। মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ফুটবলে গেছে। তখনই জানান দিয়েছিলেন তারা আসছেন পুরো বিশ্ব জয় করতে। ২০১০ বিশ্বকাপ জয় করে তামাম দুনিয়াকে জানিয়ে দিল ফুটবল বিশ্ব শাসন করার কেউ উঠে আসছে। কথাটা আরো বেশি পাকাপোক্তা হয়ে উঠলো যখন দু’বছর পর ২০১২ সালে ইউরো জয় করে ফেলল স্পেন। ধারাবাহিক এই সাফল্যে আধিপত্য নিয়ে স্পেনের লম্বা যাত্রাটা ভালো হবে ভেবেছিলেন স্প্যানিশরা। কারণ এই দলটা দেখে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন প্রজন্ম ফুটবল পথে পা বাড়িয়েছে। নিজেদের ভক্তকুল তৈরি হয়েছিল। অথচ সময় না যেতেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে ৩৪ বছর বয়সী জাভি এবং ৩০ বছর বয়সের ইনিয়েস্তাদের সুখস্মৃতি।
স্প্যানিশ এক সাংবাদিক বলছিলেন, ‘তারা নাকি ফুটবলের সূর্য ডুবতে দেখছেন। তিনি বলছেন, ‘জাভি হার্নান্দেজ এবং ইনিয়েস্তা যদি বিদায় নেয় সেটা আমাদের ফুটবলের জন্য ভালো হবে না। কারণ এরাই স্পেনকে অনেকদূর নিয়ে গেছেন। কিন্তু তার পরও মাঠে দলকে ঠেকাতে না পারলে বিদায় তো নিতেই হবে। এটা বাস্তবতা।’
স্প্যানিশদের কাছে মনে হচ্ছে একটা হারের কারণে স্প্যানিশ ফুটবল বোধহয় শেষ হয়ে গেলো। কাপাকোবানার বীচের পাশে থাকা স্প্যানিশদের চলাফেরা একবারেই নীরব এবং শব্দহীন। জাভি ইনিয়েস্তারাই বার্সেলোনাকে মর্যাদার ২৫টি ট্রফি এনে দেয়ার কারিগর ছিলেন। গত ছয় বছরে সাফল্যের জন্য ওরাই বেশি পরিশ্রম করেছেন। বল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা এবং দুই পায়ের ড্রিবলিং এবং মোক্ষম সময়ে দুর্দান্ত গোল বানিয়ে দেয়ার ক্ষমতার তুলনা নেই। আজ যে মেসি। তার গোলের পেছনেও রয়েছে ইনিয়েস্তাদের বিরাট অবদান। ইনিয়েস্তা জাভিরা না থাকলে মেসির এতো গোলও হতো না।
