বৃহত্তর রাজশাহীর উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চলের অনাবাদি (পতিত) জমিতে বারি-৬ মুগডাল আবাদের স্থানীয় কৃষকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। মাত্র ২ মাসে মুগডালের চাষ কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, দরিদ্র নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জমির উর্বরতা শক্তি বাড়াচ্ছে।
গতকাল রাজশাহী জেলার কদমশহর, চব্বিশনগর, তিলাহারী আইবাই, কাদিপুর-গোপালপুর, চাপালসরাইল, ঈশ্বরীপুর ও মাথাভাঙ্গা এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বৃহত্তর রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চলে আগে বছরে দুইটি শস্যের আবাদ হতো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি মুগ-৬ ডালের আবাদ শুরুর পর বছরে তিনটি শস্যের আবাদ হচ্ছে। তারা আরো জানান, রবি শস্য গম, সরিষা, আলু, হাইব্রিড টমেটো, পেঁয়াজ রসুন প্রভৃতি রবি শস্য উত্তোলনের পর রোপা আমনের আবাদের আগ পর্যন্ত এপ্রিল ও মে এই দুই মাস উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চলের লক্ষাধিক বিঘা জমি পতিত থাকে। মূলত ওইসব পতিত জমিতে ফসলের নিবিড়তা বাড়াতে স্বল্প মেয়াদী বারি-৬ মুগডাল চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহী করে তুলেছে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন।
কদমশহর এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে বারি-৬ মুগ ডালের আবাদ করেছেন। খরচ বাদে তিনি দুই মাসে এ জমি থেকে ২৪ হাজার লাভবান হয়েছেন। কদমশহর এলাকার জমিতে মুগ ডালের ফল সংগ্রহে ব্যস্ত নারী মোস্তারী বেগম (৩০) জানান, প্রতি কেজি ফল সংগ্রহ করে দিয়ে তারা ১০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন। বেকার সময়ে মুগ ডালের ফল সংগ্রহ করে তারা দৈনিক গড়ে ৩/৪শ’ টাকা আয় করতে পারছেন।
