বেনজামাদের এগিয়ে যাবার লড়াই আজ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০১
প্রথম ম্যাচে হন্ডুরাসকে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ফ্রান্স আজ ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা করিম বেনজামা-পল পোগবাদের দল আজ জিতলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে নক আউট রাউন্ডের পথে। তবে সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তেনোভায় ফরাসিদের নক আউট রাউন্ডে উত্তরণের পথকে কঠিন করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবে সুইজারল্যান্ড। পিছিয়ে পড়েও প্রথম ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী সুইসরা। গত দেড় যুগ ধরে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রেকর্ডের দিকে তাকালে মজার এক তথ্য চোখে পড়বে সবার। নিজেদের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে ’৯৮ সালে ফাইনাল জেতা দলটি গত চারটি বিশ্বকাপেই হয় প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে নতুবা ফাইনাল খেলেছে! দলের মূল খেলোয়াড় জিনেদিন জিদানের অনুপস্থিতিতে এর পরের বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় তারা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় সেনেগালের কাছে। পরের বিশ্বকাপে ফিরলেন জিদান, ফিরলো ফ্রান্সও। ফরাসি ফুটবলের এই মহানায়কের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে দলটি আট বছর বাদে আবার পা রাখে ফাইনালে। যদিও ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। এরপর গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন খেলায় একটিমাত্র পয়েন্ট নিয়ে আবার প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়! সামপ্রতিক ইতিহাসের এই ধারা মানলে, এবার আবারো ফাইনাল অপেক্ষা করছে দলটির জন্য। প্রথম ম্যাচে, হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্স বলছে সেটা করার সামর্থ্যও আছে তাদের। যদিও বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স আর বিশ্বকাপের ঠিক আগে মূল খেলোয়াড় ফ্রাঙ্ক রিবেরির হারানোয় তাদের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন অনেকেই। তবে, হন্ডুরাসকে ৩-০ গোলে হারানোর রাতে বেনজামা-পোগবাদের পারফরম্যান্সে এখন অনেকটাই চুপ সমালোচকদের মুখ। রিবেরির অনুপস্থিতিতে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে খেলোয়াড় বেনজামার পারফরম্যান্সই তাই গ্রুপ পর্ব ডিঙ্গিয়ে আরো বড় কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে অধিনায়ক হুগো লরিসকে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গত একবছর প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল করার পাশাপাশি বেনজামার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাটাও। লরিসের বিশ্বাস, বেনজামার ক্ষমতা আছে বিশ্বকাপের মতো আসরে পার্থক্য গড়ে দেয়ার, ‘রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অসাধারণ একটা মৌসুম কাটিয়েছে সে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি তার আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটাও অনেক ওপরে। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এটা ফ্রান্সের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্ভবত সেই আমাদের মূল খেলোয়াড় তার কাছ থেকে এরকম কিছুই চাইছি আমরা।’ এদিকে, প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ হারানো সুইসরাও প্রস্তুত তাদের ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে। সেই ১৯০৫ সালে এই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল শুরু করা দলটি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাদের ১২ জয়ের সর্বশেষটি পেয়েছে ১৯৯২ সালে। তবে রক্ষণ সেনাপতি গোখান ইনলারের নেতৃত্বে দলটির বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স যথেষ্ট আশা জাগানিয়া। আক্রমণভাগে আছেন জাহার্দান শাকিরির মতো স্ট্রাইকার। আর দলের সবচেয়ে বড় তারকাটি আছেন সাইডলাইনে, কোচ ওটমার হিজফেল্ড। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সফল এই কোচ মাঠের বাইরে থেকেও প্রথম ম্যাচেই রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে হিডফেল্ডের দুই বদলী খেলোয়াড়ই গোল করে পাল্টে দিয়েছিলেন ফলাফল। সুতরাং আজও তার কাছ থেকে নতুন কোন কৌশল দেখা গেলে অবাক হবার কিছু নেই। দুই দলের সর্বশেষ তিন ম্যাচে অবশ্য জিততে পারেনি কেউই। দুটি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে, একটি ম্যাচের ফল ছিল ১-১। *বিশ্বকাপ জয়ী আটটি দলের একটি ফ্রান্স। ’৯৮ এ নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফিটি জেতে তারা। অন্যদিকে সুইসদের সর্বোচ্চ সাফল্য হয়ে আছে তিনবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। *এখন পর্যন্ত দুই দল সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে মুখোমুখি হয়েছে ৩৬ বার। ফ্রান্স জয় পেয়েছে ১৫ বার, সুইজারল্যান্ড ১২ টি খেলায়। ড্র হয়েছে নয়টি ম্যাচ। *বিশ্বকাপের ১৩ টি আসরে খেলার অভিজ্ঞতা আছে ফ্রান্সের। অন্যদিকে সুইসরা খেলেছে দশ বার। *বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খেলা ৫৫ টি, খেলায় ফ্রান্সের জয়, পরাজয় ও ড্রয়ের সংখ্যা যথাক্রমে ২৬, ১৮ ও ১১। *সুইজারল্যান্ড ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ২৯ টি খেলায় জিতেছে মাত্র নয় বার। হার ও ড্রর সংখ্যা যথাক্রমে ১৪ ও ছয়। *মজার ব্যাপার হচ্ছে সুইসরা তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবল শুরুই করেছিল ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। ১৯০৫ সালে প্যারিসে ফুটবল, সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স।