কাহিলের শেষ যাত্রা

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০২
তিন বিশ্বকাপ, পাঁচ গোল! তার মান বোঝার জন্য ছোট এই তথ্যটাই যথেষ্ট। বয়সটাও এর মধ্যে হয়ে গেছে ৩৪। এবার তো বিদায় নিতেই হয়। দলের হার, বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়- এতো বেদনার মধ্যে মাথা উঁচু করেই বিদায় বলতে যাচ্ছেন টিম কাহিল। এটাই যে তার শেষ বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশ্বকাপটা শেষ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। সকারুজ দলের মত তাই শোকে আচ্ছন্ন কাহিলও। মাথা উঁচু থাকলেও তাই হতাশাই ঝড়লো তার কণ্ঠে। একই সাথে অস্ট্রেলিয়ান দলের জন্য থাকলো প্রশংসার বার্তা, ‘অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলের জন্য এটা একটা অনন্য ঘটনা। আজকের ম্যাচের পর সবার মধ্যে যে শ্রদ্ধাবোধ জন্মেছে আমাদের প্রতি সেটা সত্যি অসাধারণ।’ প্রথম ম্যাচে চিলির বিপক্ষে হারের পর নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার শেষ সুযোগ। সেটা মনে রেখেই মাঠে নেমেছিল কাহিলরা, ‘এটা আমাদের জন্য অস্বাভাবিক একটা পারফরম্যান্স ছিল। আমার মতে সবাই জানতাম, আমাদের সুযোগ আছে। নেদারল্যান্ড দলটাকে নিয়ে আমরা অনেক গবেষণা করেছি। ওদের অনেক ভিডিও দেখেছি। আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল বলেই মনে হয়। শুরু থেকেই আমরা ওদের চাপে ফেলতে চেষ্টা করেছি। জানতাম ওরাও আমাদের উপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে।’ ২০ মিনিটে আরিয়েন রোবেনের গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর দারুণ এক গোল করে টিম কাহিল দারুণ এক ভলিতে দলকে সমতায় ফেরান। ম্যাচ শেষে সেটাই হয়ে ওঠে লড়াকু সকারুজ দলের প্রতীক, ‘ওটা অনন্য মুহূর্ত। বলটা এতো সুন্দর ভাবে আমার কাছে এসেছিল!’ এরপরই হতাশ শোনালো টিম কাহিলের কণ্ঠস্বর। ছোট দলে খেলা ‘বড়’ এই তারকার কষ্টটা আরও খানিকটা স্পষ্ট হয়ে উঠলো, ‘আপনি যদি ট্রফি জিততে চান তাহলে এমন আরও অসংখ্য কীর্তি গড়তে হবে। সেটা আমরা আর করতে পারলাম কোথায়! যাইহোক, এটা আমার ক্যারিয়ারে আরেকটি গৌরবময় মুহূর্ত।’ শেষ বিশ্বকাপ, কাহিল নিজের হাতে বানানো অস্ট্রেলিয়া দলকে রেখে যাচ্ছেন ভবিষ্যতের জন্য, ‘প্রত্যেকেরই এই মঞ্চে খেলার স্বপ্ন থাকে। আমি দেশের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছি। বাকিটা আমি রেখে গেলাম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। আজকের ম্যাচও আগামী প্রজন্মকে উত্সাহিত করবে। একদিন তারা আরও বড় কিছু করবে।’ পর পর দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড। তাই স্পেনের বিপক্ষে খেলা হবে না শেষ ম্যাচটা। এর অর্থ দাঁড়ালো, বিশ্বকাপে আর কখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামবেন না নিউইয়র্ক রেড বুলসের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ না খেললেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচে সতীর্থদের জন্য রেখে দিলেন আগাম শুভ কামনা, ‘হ্যাঁ, আমি মাঠে সব কিছু রেখে এসেছি। গত দুই ম্যাচে আমি জীবন বাজি রেখে খেলেছি। চেয়েছিলাম দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়ে যেতে। কিন্তু সেটা হয়নি। এখন পর্যন্ত এটা আমাদের জন্য ছিল দারুণ এক বিশ্বকাপ। শেষ ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম সেরা একটা দলের বিপক্ষে আমাদের লড়াই করতে হবে।’ কাহিল-পরবর্তী যুগের বিশ্বকাপ মিশনটা তাহলে তার উপস্থিতিতেই শুরু হতে যাচ্ছে!