ঘানার বিপক্ষে সতর্ক জার্মানি

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২১:৪৬
বিশ্বকাপে তারা চেনা প্রতিপক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকা আসরেও ‘ডি’ গ্রুপের হয়ে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। চার বছর পর ব্রাজিল বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বেই ফের মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি-ঘানা। ফর্তেলেজার ক্যাস্টেলাও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ‘জি’ গ্রুপের এই ম্যাচটি জার্মানির জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ; এর চেয়ে ঢের বেশি গুরুতর ঘানার জন্য। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে যাওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে জার্মানির বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে হবে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। জয় পেলে আরও ভাল হয়। তবে ড্র করলে আগামীকাল পর্তুগালের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় কামনা করতে হবে ঘানার। একই সঙ্গে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পর্তুগালকে অবশ্যই হারাতে হবে তাদের। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জার্মানির বিপক্ষে ঘানার জয় প্রত্যাশা করাটা নিছক বাতুলতায় ঠেকতে পারে। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা জার্মানি আফ্রিকান প্রতিনিধিদের বিপক্ষে সতর্ক মনোভাব নিয়েই মাঠে নামবে। কারণ কাকতালীয়ভাবে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির রেকর্ড সুখকর নয়। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভাল করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বেশ ক’বার হোচট খেতে হয়েছে তাদের। পরিসংখ্যান অন্তত এমন সাক্ষীই দিচ্ছে। ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালের আসরে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করায় গ্রুপের নিজেদের শেষ লড়াইটা চরম চাপ নিয়ে খেলতে হয়েছে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিল জার্মানি। দক্ষিণ আফ্রিকা আসরে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তো সার্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল জোয়াকিম লো’র শিষ্যদের। সে ক্ষেত্রে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে কোনো রকম দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে তারা। জোহান্সবার্গে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জার্মানির একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মেসুত ওজিল! বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অতীত তেমন সুখকর না হওয়ায় এবার বেশ সতর্ক জার্মানি। শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে এমন তথ্যই দিলেন সেন্টারব্যাক পার মারতেসেকার, ‘এই সতর্ক সংকেতগুলো আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে। তাই এবার আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে সব ধরনের সতর্কতা নিয়েই মাঠে নামবো।’ ঘানাকে আজ হারাতে পারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করবে জার্মানি। এ ক্ষেত্রে গ্রুপের অপর দল যুক্তরাষ্ট্রেরও নক-আউট পর্বে যাওয়ার পথ সুগম হবে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে কোনোরকম পরাজয় এড়ালেই হবে। ঘানার বিপক্ষে জার্মান দলে বেশ ক’টি পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে খেলতে নেমে উরুতে চোট পেয়েছিলেন রক্ষণভাগের ম্যাট হিউমেলস। তাকে বিশ্রামে পাঠানো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হিউমেলসের জায়গায় খেলানো হতে পারে রাইট-ব্যাক জেরোমে বোয়েটেংকে। এদিকে, জার্মানির বিপক্ষে ভাল কিছু করার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন ঘানার কোচ কেওয়েসি আপিয়া। ফেভারিটদের বিপক্ষে আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করতে লেফট-ব্যাক কাওয়াদো আসামোয়াকে উপড়ে নিয়ে আসছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লেফট-ব্যাকে আশানুরূপ ভাল করতে পারেননি আসামোয়া। জার্মানি-ঘানা লড়াইয়ে নজর থাকছে বোয়েটেং ভাইদের দিকেও। দুই সত্ ভাই জেরোমে বোয়েটেং খেলবেন জার্মানির হয়ে, কেভিন প্রিন্স বোয়েটেং খেলবেন ঘানার হয়ে। স্বাভাবিক হিসাব বলছে, সবদিক থেকেই ঘানার বিপক্ষে এগিয়ে থাকছে জার্মানি। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন থমাস মুলার। হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এ ছাড়া আজকের ম্যাচে নামানো হতে পারে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। যিনি আর একটি গোল করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী রোনালদোকে। গানার বিপক্ষে অতীতের লড়াইয়েও এগিয়ে জার্মানি। এর আগে দু’বার মুখোমুখি হয়েছিল তারা। দু’টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেও জার্মানির পারফরম্যান্স একেবারে নজরকাড়া। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সর্বশেষ ১৯ ম্যাচের মধ্যে একটিতেই হেরেছিল তারা। জয় এসেছে ১৪টি ম্যাচে, ড্র হয়েছে চারটি ম্যাচ। অতীত পরিসংখ্যানের ব্যত্যয় না ঘটলে আজকের ম্যাচেও ঘানার বিপক্ষে সহজ জয় প্রত্যাশা করতে পারে জোয়াকিমের দল।