নিজের মনের কথাগুলো কখনোই ঠিকভাবে প্রকাশ না করার একটা অভিযোগ সবসময়ই লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে করে আসছে গণমাধ্যমগুলো। ফলে ধারণা হতে পারে, কারো উচ্ছ্বসিত প্রশংসা বা সমালোচনা করাটা বোধহয় তার স্বভাববিরুদ্ধই। অথচ বসনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ঠিক সেই কাজটাই করেছিলেন তিনি। কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার রক্ষণাত্মক কৌশলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, এই আর্জেন্টিনাকে আমি নিজেও চিনতে পারছি না, সমর্থকরা কিভাবে চিনবে। আগের কথার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গতকাল এই প্লেমেকার বলেন, আজ ইরানের বিরুদ্ধে আরো আক্রমণাত্মক এক আর্জেন্টিনাকেই দেখতে চাইছেন তিনি।
মেসি-গঞ্জালো হিগুইন-সার্জিও অ্যাগুয়েরো; তর্কযোগ্যভাবে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগটাই আছে দলে। তাদের একের পর এক বল সাজিয়ে দিতে প্রস্তুত অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, জাবালেতারাও। সুতরাং একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের রক্ষণ প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলতে চাইবে সেটাই স্বাভাবিক। অথচ সাবেলা কিনা সাজালেন রক্ষণাত্মক এক কৌশল। ফলে বসনিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে হতাশ সমর্থকরা।
একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙ্গে দেয়া অভ্যাস যার, সেই মেসির কেন ভাল লাগবে এই কৌশল? স্বভাবতই তাই ম্যাচ শেষে জানিয়েছিলেন এই কৌশলের মানিয়ে নিতে তার অস্বচ্ছন্দের কথা। আজ বোলো হরাইজোন্তোয় ইরানের বিরুদ্ধে তাই নিজেদের প্রথাগত সেই আক্রমণাত্মক আর্জেন্টিনাকেই দেখতে চাইছেন তিনি।
চারবার বিশ্বের বর্ষসেরার খেতাব পাওয়া এই বার্সেলোনা সুপারস্টার বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনা দল। আমার মনে হয় কে খেলছেন বা খেলছেন না, সেদিকে মাথা না ঘামিয়ে আমাদের নিজের খেলার দিকেই মনোনিবেশ করা উচিত। দু’জনকে নিয়েই আক্রমণভাগে খেলতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এতে করে প্রতি-আক্রমণে যাওয়া আরো সহজ হয়। কারণ আক্রমণভাগে যখন বেশি লোক থাকবে তখন আমরা সুযোগগুলোও বেশি পাব।’ তবে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচটিতে গোল করে স্বদেশী সমর্থকদের চাপ থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হয়েছেন মেসি। কারণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বড় কোন টুর্নামেন্টে তিনি কোন গোল করতে পারেন না। তারপরও প্রথমার্ধে মেসির পারফরম্যান্সের সমালোচনা এখনো রয়েই গেছে। কোন কোন সমালোচক বলছেন, এ সময় তার প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের আরো কাছাকাছি থাকা উচিত ছিল।
মেসি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমার বল পেতে সমস্যা হচ্ছিল। যখন আমি বল পাচ্ছিলাম তখন গোলপোস্ট থেকে অনেক দূরে ছিলাম। বাস্তবতা হচ্ছে- আমি কয়েকবার বল পেয়ে হাতছাড়া করেছি। আর অন্য সময় আমি যখন বল পেয়েছি তখন অনেক পেছনে ছিলাম।’
ম্যাচটিতে সাবেলার প্রথম একাদশে নেপোলীর স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েন ঠাঁই পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার রিওতে অনুষ্ঠিত নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেসি বসনিয়া-হার্জেগোবিনার বিপক্ষে গোল করে জয়ের পথ অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলার পর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন হিগুয়েন। আর মেসি বলেছেন, আক্রমণভাগে হিগুয়েন ও সাজিও এগুয়েরো এই দু’জনের সঙ্গে খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।
হিগুয়েনের সঙ্গে মিডফিল্ডে ফিরতে পারেন ফার্নান্দো গ্যাগো। কয়েক বছর আগেই মেসি জানিয়েছিলেন, কৌশলগতভাবে এই বিশ্বকাপে দলের হয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন গ্যাগো। কোন অঘটন না ঘটলে রক্ষণ-আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু বা হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনে থাকছেন জাভিয়ের ম্যাশেরানো। আজ ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি হবে এই বার্সেলোনা তারকার শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এদিকে সোমবার কুরিতিবায় আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপে ইরানের শুরুটাও বেশ আশাব্যঞ্জকই হয়েছে। কোচ কার্লোস কুইরোজের কুশলী তত্ত্বাবধানে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠে আসা দলটি প্রথম ম্যাচে সুপার ঈগলদের সাথে ড্র করে খানিকটা চমকেই দিয়েছে সবাইকে। স্ট্রাইকার রেজা গুচানেজহাদ মনে করছেন দলটির উপর বড় কোন চাপ না থাকাই তাদের ভাল কিছু করতে সাহায্য করবে, ‘প্রথমত আমরা ম্যাচটিকে উপভোগ করব। এরপর কোচের নির্দেশ অনুসরণ করব। ওই ম্যাচে আমাদের হারানোর কিছুই নেই।
এবারের আসরের ফেভারিট দলগুলোর একটি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। আর আমাদের সেরকম কিছু নেই। তাই সব ধরনের চাপ থাকবে তাদের (আর্জেন্টিনা) উপরেই। নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ঐ ম্যাচের মতো আমরা শুধু আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইবো।’
