শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা বেশ আলোচ্যই হয়ে দাঁড়ালো। একদিকে কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা যেনতেন প্রকারে দলের জয় নিশ্চিত করতে রক্ষণাত্মক খেলারও জন্যও প্রস্তুত। অন্যদিকে লিওনেল মেসি চান শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবল।
প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে দলের রক্ষণাত্মক ফর্মেশন নিয়ে সমালোচনা করেছেন মেসি। এমনকি গ্যাগো ও হিগুয়েইন মাঠে নামাতেই তিনি যে ভালো খেলতে পারেন, তাও বলেছেন। মানে এদের বাইরে রাখাটা তার পছন্দ না। কিন্তু মুশকিল হয়েছে অনেকে এখন পাল্টা মেসিকেই আক্রমণ করছেন। অনেকে বলছেন, মেসি নিজেই তো দল গঠন করেন। তাহলে দল নিয়ে তার অসন্তুষ্টির কারণ কী!
এই সমালোচনায় রীতিমতো খেপেছেন মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ হ্যাভিয়ের মাচেরানো। তিনি বলছেন, মেসি যত ক্ষমতাই থাক, কখনোই দল গঠনে হাত দেন না। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা থেকে মাচেরানো বলছিলেন, ‘আমি জানি মেসি অনেক ক্ষমতাধর খেলোয়াড়। কিন্তু ও কখনোই একজন রেখে অন্য একজনকে দলে নেয়ার মত দিতে পছন্দ করে না। কারণ সে একজন আবেগপ্রবণ মানুষ। ও সবাইকে একই চোখে দেখে। দল গঠনের গুরুদায়িত্ব নিতে মেসি পছন্দ করে না। আমি পরিষ্কার বলছি, ও দল গঠনে হাত দেয় না।’ বসনিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৫-৩-২ পদ্ধতিতে দল সাজান আর্জেন্টাইন কোচ সাবেলা। যে পদ্ধতিতে খেলে অভ্যস্ত না মেসিরা। পরে দ্বিতীয়ার্ধে যখন ৪-৩-৩ ফর্মেশেনে দল সাজানো হয় তখনই মেসি নিজেকে ফিরে পান। এই ফর্মেশন নিয়ে মেসির সমালোচনার ব্যাপারে মাচেরানো নিরাপদ থাকতে চাইলেন, ‘কোচ সাবেলাই আর্জেন্টিনার দল গঠন করেন। হ্যাঁ, নির্দিষ্ট একটা ফর্মেশন মেসির ভালো না লাগতে পারে। সেটাই হয়তো বলেছে সে। এখানে অন্য কিছু নেই।’
প্রায় একইভাবে এই ইস্যুতে নিরাপদে থাকতে চাইছেন বাকি আর্জেন্টাইনরাও। দলের বিকল্প গোলরক্ষক মারিও আন্দুজার যেমন বলছিলেন, ‘এটা একান্তই মেসির চিন্তা। আমাদের দলে সবার চিন্তা স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার আছে। সে সেটা করেছে। এতে তো দোষের কিছু নেই।’
