সাইড বেঞ্চে ফিরে গিয়ে কাঁদছিলেন আপনজন হারানোর শোকের মত! কিন্তু আসলে সেটা ছিল নিজেকে প্রমাণ করার আনন্দ। যেই ইংলিশ লিগে খেলতে গিয়ে গণমাধ্যমের তোপের মুখে পড়েছিলেন সুয়ারেজ, সেই দেশটির জাতীয় দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স তো তার চোখে পানি এনে দিবেই।
সুয়ারেজের জন্য যে অশ্রু আনন্দের, ইংলিশদের জন্য সেটাই বেদনার। রয় হজসন কাঁদলেন না। কিন্তু যা বললেন তাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এক সুয়ারেজের কাছেই হেরে গেছে তার দল। বিশ্বকাপ থেকে ইংলিশদের বাদ পড়ে যাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়।
ম্যাচটিতে উরুগুয়ের জয়ের নায়ক লুইজ সুয়ারেজকে ইংল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলে মনে করেন কোচ হজসন। উরুগুয়ে স্ট্রাইকারের দু’টি গোলই তার শীর্ষরা বানিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি, ‘দু’টি সুযোগই সুয়ারেজ তার রাস্তায় বানানো পেয়েছে। অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় হওয়ায় সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে সে। তার এই গোলগুলোতেই টুর্নামেন্টে আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে।’
প্রথম ম্যাচে ইতালির কাছে হারের পরও দলের ফুটবল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন হজসন। এবারও তাকে একই রকম মন্তব্য করতে শোনা গেল। ৬৬ বছর বয়সী কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি দু’টি ম্যাচেই আমরা ভাল ফুটবল খেলার কিছু উপাদান দেখিয়েছি। কিন্তু ম্যাচের ফলই তো সব। দু’টি ম্যাচেই ফল আমাদের বিপরীতে গেছে। আমরা অনেক হতাশ। আমরা বিধ্বস্ত।’
গুরুগুয়ের বিপক্ষে পরাজয়টা অপ্রত্যাশিতই বললেন হজসন, ‘এই ম্যাচে আমরা ভাল কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। এ জন্য আমরা অনেক পরিশ্রমও করেছিলাম। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম আমরা। জয় পাওয়ার ব্যাপারে আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। জয় না হোক কম করে হলেও ড্র করতে পারতাম আমরা।’ এদিকে ইংলিশ গণমাধ্যমও বেশ ক্ষেপেছে রয় হজসনের উপর। এমনকি, দলের এমন পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড কোচ রয় হজসন পদত্যাগ করতে পারেন ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন তিনি, ‘না, পদত্যাগ করার আমার কোনো ইচ্ছা নেই। অবশ্যই আমি অনেক হতাশ। তবে আমার পদত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। তার পরেও কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে কোচ হিসেবে আমি সঠিক লোক নই, তাহলে তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।’
ইংলিশদের সম্ভাবনা যে নেই তা স্বীকার করলেন কোচ রয় হজসনও, ‘আমাদের সম্ভাবনা অবিশ্বাস্য রকম ক্ষীণ। টুর্নামেন্টে সম্ভাবনা টিকে রাখতে আজকের (বৃহস্পতিবার) ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় অথবা ড্র করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা এটা পারিনি।’
এবার শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি ভাগ্যও সহায় হতে হবে ইংলিশদের!
