অন্য আর দশজন ভাইয়ের মতই তাদের সম্পর্কটা। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার কারণে খুব একটা দেখা না হলেও যোগাযোগটা থাকে সব সময়ই। কিন্তু ঝামেলা লাগে কেবল এই বিশ্বকাপের সময়টাতে এসেই। বলা হচ্ছে বোয়াটেং ভাইদের কথা। অন্য সব সময় নিয়ম করে ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডাবাজি চালালেও বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন।
বিশ্বকাপের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা তো দূরের কথা, কোনো যোগাযোগই হচ্ছে না তাদের মধ্যে। বিশ্বকাপের গ্রুপিং ঠিক হওয়ার পর থেকে রীতিমত আয়োজন করেই যোগাযোগ বন্ধ করে রেখেছিলেন। বিবিসিকে বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান খেলোয়াড় জেরোমে বোয়াটেং বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ। আমরা দু’জনই এখন কেবল খেলার দিকে নজর দিচ্ছি।’
আজ ফোর্তালেজায় ঘানার বিপক্ষে জার্মানী জিতে গেলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে কোনো বাধা থাকবে না তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। আর একই সাথে ঘানার আরেকটি ভুল মানেই বিশ্বকাপ থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হওয়া। সেটা ভালই জানা আছে কেভিন প্রিন্স বোয়াটেংয়ের। শালকে জিরোফোরের এই খেলোয়াড় তাই একে বলছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই, ‘আমাদের জন্য এখন এই ম্যাচটা অনেকটা যুদ্ধের মত। জার্মানির বিপক্ষে জয় আর মৃত্যুর সাথে লড়াই করা একই ব্যাপার। আমাদের সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
কেভিন ও জেরোমে — দু’জনের জন্মই হয়েছিল বার্লিনে। দু’জন এক সাথে জার্মানীর বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন। ২০০৯ সালে জার্মান জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যান জেরোমে। কিন্তু সুযোগ মিলছিল না কেভিনের। ২০১০ সালের মে মাসে তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই জাতীয় দল হিসেবে বাবার দেশ ঘানাকে বেছে নেন কেভিন।
চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের আসরে অনন্য এক রেকর্ড করেন এই দুই ভাই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দুই ভাই হিসেবে মুখোমুখি হয়েছিলেন এই দু’জন। আজ ঘটতে যাচ্ছে তার দ্বিতীয় নজির। বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মত মুখোমুখি হবার আগে দুই বোয়াটেংই রোমাঞ্চিত। জেরোম বোয়াটেং বলেন, ‘অবশ্যই বিশ্বকাপের মঞ্চে ভাইয়ের বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমার জন্য বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। আর দ্বিতীয়বারের মত আমি এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছি। আমার ধারণা কেভিনও আমার মতই ভাবছে।’
বাবা প্রিন্সও তার দুই ছেলের খেলা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন। আজকের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘দেখার জন্য এটা আমার জন্য খুব সহজ একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন দিন শেষে আমিই জিতবো। আর প্রার্থনা করবো আমার ছেলেদের কেউ যেন কোনোভাবে আঘাত না পায়।’
