‘কীর্তি’ বা ‘কুকীর্তি’ — ফুটবল বিশ্বে এই দু’দিক থেকেই সংবাদপত্রের শিরোনামে বহুবার এসেছে ডিয়েগো ম্যারাডোনার নাম। আবার যখন চলছে আরেকটি বিশ্বকাপ তখন তার নাম না এসে পারে না। মারাকানা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তাকে নাকি স্টেডিয়ামেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনটাই দাবি করেছিলেন তিনি। এর সাথে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচেও তাকে ঢুকতে দেয়া হবে নাকি সেটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আজেন্টিনার হয়ে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী এই কিংবদন্তী। আগামী ২৫ জুন পোর্তো আলেগ্রের মাঠে সুপার ঈগল নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা এবং এ ম্যাচে তাকে মাঠে প্রবেশ করতে নাও দেয়া হতে পারে বলে শংকিত ম্যারাডোনা। গত ১৫ জুন মারাকানায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ তাকে দেখতে দেয়া হয়নি—এমন তথ্য প্রকাশের পর তিনি দ্বিতীয় ম্যাচ দেখা নিয়ে শংকা প্রকাশ করলেন।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে ম্যারাডোনা এই প্রসঙ্গে বলেন,‘সেই ম্যাচ দেখার জন্য আমাকে মাঠে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি তাই দ্বিতীয়ার্ধ দেখার জন্য আমাকে হোটেলে ফিরে যেতে হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাকে কাজটা করতে হয়েছে। মারাকানায় প্রবেশ নিশ্চিত করতে আমার করণীয় সবকিছুই আমি করেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। মাঠ থেকে বের করে দেয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ ছিলেন ম্যারাডোনা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,‘আমার করণীয় সবকিছুই আমি করেছি কিন্তু তারা আমাকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। কেউ একজন শুধু বলেছে, না, আপনাকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সুতরাং আমাকে টিভিতে খেলা দেখতে হয়েছে।’
এখন ড্রাগন(বসনিয়া-হার্জেগোভিনা) ও সুপার ঈগলদের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্যায়ে নিজ দেশের আসন্ন দুই ম্যাচেও তাকে একই ধরনের ঝামেলায় পড়তে হতে পারে বলে শংকিত আর্জেন্টিনার সাবেক এ অধিনায়ক, ‘আশা করছি আমরা এ সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পাারব। কেননা আমি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে এবং আর্জেন্টিনার সামনের ম্যাচগুলো দেখতে চাই। একটা ম্যাচ দেখতে না পারা এক বিষয় এবং প্রবেশে বাধা দেয়া আরেক বিষয়।’
ব্রাজিলে প্রতিদিনের ধারাভাষ্যেই ম্যারাডোনা নিয়মিত ফিফার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই সহ-সঞ্চালক হিসেবে একটি টিভিতে সদস্য দেশগুলোর ওপর ফিফার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন— জনগণের এটা জানা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
নির্দিষ্ট করে ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে ফিফা জানিয়েছে মারাকানার ঘটনা সম্পর্কে কোন রেকর্ড তাদের কাছে নেই। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘তাকে মারাকানায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি এমন ধরনের কোন ঘটনা তাদের জানা নেই। সম্ভবত তিনি বাজে কোন কাজ করতে গিয়েছিলেন।’ ভেনিজুয়েলার টেলিভিশন সমপ্রচার কেন্দ্র টেলেসুর হয়ে কাজ করছেন। যেটির ফিফা বিশ্বকাপের সমপ্রচার স্বত্ব নেই। ফিফার মহিলা মুখপাত্র ডেলিয়া ফিসচার বলেন, তারা ম্যারাডোনার কাছ থেকে এ ধরনের কোন অভিযোগ পাননি। তার পক্ষ হয়ে অন্য কেউও এই অভিযোগ করেনি। ফিফা মুখপাত্র বলেন, ‘হয়তো তিনি এমন কোন স্থানে যেতে চেয়েছিলেন যেখানে সচরাচর প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত আছে। তবে এ সংক্রান্ত কোন তথ্যও আমাদের নথিতে নেই।’ -বাসস/ওয়েবসাইট
