তারপরও হজসনেই আস্থা!

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২০:৩৮
বিশ্বকাপটা প্রায়ই ইংলিশদের জন্য ‘পুরনো’ একটা চিত্র হয়ে সামনে চলে আসে। ১৯৬৬ সালে সেই একবার চ্যাম্পিয়ন হবার পর থেকে তাদের প্রাপ্তির খাতা বলতে ১৯৯০ সালের সেমিফাইনাল। এর বাদে কোন দিন কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডিও পার করতে পারেনি ফুটবলের ‘আবিষ্কারক’ দেশটি। এবারের বিশ্বকাপেও ফিরে আসলো অতীত স্মৃতি। প্রথম দুই ম্যাচেই হার। ইতালি-কোস্টারিকা ম্যাচের ফলাফল বিবেচনা রেখে ক্ষীণ একটা সম্ভাবনা থাকলেও ম্যাচ শেষ হতে হতে সেটাও বাদ। কোস্টারিকার জয়ে কপাল পুড়লো ইংল্যান্ডের। বাদ পড়তে হল গ্রুপ পর্যায় থেকেই। ব্রাজিলে চলমান বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর তাই দেশজুড়ে সমালোচনা। সেই সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে কোচ রয় হজসনকেও। তবে এতো কিছুর পরও গত শুক্রবার ইংল্যান্ড দলের কোচ হিসেবে হজসনের উপরই আস্থা রাখার কথা ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান গ্রেগ ডিক। বৃটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ডিক বলেন,‘আমরা রয় হজসনের পক্ষে এবং দলের কোচ হিসেবে তাকে দেখতে চাই। পরিবর্তনের কোন কারণ আমরা দেখছি না। আমরা মনে করছি গত চার বছর যাবত্ই হজসন তার দায়িত্ব ভালভাবে করে আসছেন এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আরো ভাল করবেন বলে আশা করছি।’ ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে গত শুক্রবার রাতে কোস্টারিকার কাছে ইতালি হারার পরও গত বৃহস্পতিবার উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হওয়া ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। ২০১২ সালের মে মাসে ফ্যাবিও ক্যাপেলোর কাছ থেকে দায়িত্ব নেন হজসন এবং ইংল্যান্ডের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ পর্যন্ত। করিন্থিয়ান্স অ্য্যারেনায় উরুগুয়ের কাছে পরাজয়ের পর হজসন বলেন- পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন না তিনি। এই প্রসঙ্গে ৬৬ বছর বয়সী এ কোচ বলেন,‘পদত্যাগ করার কোন ইচ্ছে আমার নেই। অবশ্যই আমি কিছুটা হতাশ তবে পদত্যাগ করার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’ ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মত ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় নেয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও তরুণ খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তি এবং দলের আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন হজসন। ডিক বলেন,‘সকলেই মনে করে প্রথম ম্যাচে সত্যিকারার্থেই আমরা ভাল খেলেছি এবং সামান্য ব্যবধানে হেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটুর জন্য হেরেছি। কিন্তু দলে কি ভুল ছিল সে বিষয়ে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নেবেন। দ্বিতীয় ম্যাচের ফল উল্টোও হতে পারত। আমরা চরমভাবে পরাজিত হইনি বা তেমন কিছু ঘটেনি।’ -বাসস/ওয়েবসাইট