বিশ্বব্যাপি মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও উন্নত মাসিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে ২৮ মে পালন করা হয় 'মাসিক স্বাস্থ্য দিবস'। মঙ্গলবার সকালে জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং এমএইচএম প্লাটফর্ম যৌথভাবে কাকরাইলস্থ জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনে এ দিবস উপলক্ষ্যে একটি সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বলা হয়, 'মাসিক বিষয়টা শুধু মেয়েদের বোঝালেই হবে না, এটা নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলাও সমান জরুরী। এটা স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়, তাই এটা নিয়ে লুকোচুরি বা গোপনীয়তার কিছু নেই। ২০১৪ সালে শতকরা ৬ ভাগ স্কুলে মাসিক নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো সেখানে ২০১৮ সালে শতকরা ৩৬ ভাগ স্কুলে মাসিক নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।'
অনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য।তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে এ অনুষ্ঠানে আসার আগে মাসিক নিয়ে কোন কথা বলিনি এবং এখানে এসে আমার সবচেয়ে চেয়ে যে উপকার হয়েছে তা হলো মাসিক নিয়ে কথা বলতে যে অস্বস্থি ছিল তা কেটেছে। সরকার নারীদের কল্যানে কাজ করছে এবং সরকার চায় নারীরা সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যায়। সুবিধা বি ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তারা ময়লা কাপড় ব্যবহার করে যা আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝঁকিপূর্ণ। তাই সুলভ মূল্যে প্যাডের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সকলেই ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশের ৫০ ভাগ নারী। কাজেই তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে। কারণ যাদি তাদের সুস্বাস্থ্য না থাকে তবে আমরা উন্নত বিশ্ব হিসেবে নিজেদের প্রতষ্ঠিত করতে পরবো না।'
এই বছরের মাসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় 'মাসিক ব্যবস্থাপনায় সচেতন হই, আজই এখনই' শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রাহমান জানান, 'আমরা কাজ করছি এসডিজি ৩,৫ এবং ৬ নিয়ে। আগে আমারা দেখতাম ৩০-৪০ ভাগ ছাত্রীরা মাসিকের সময় স্কুলে অনুপুস্থিত থাকতো। এখন এ হার আরো অনেক কমে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার একটি নারী বান্ধব সরকার। সরকার তাদের অন্যান্য অগ্রগতির পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে।'
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়ির সচিব এস.এম গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত সচিব বেগম রোকসানা কাদের, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মায়া বেন্জামিন্ট, প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রাহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা দেবনাথ। প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশে নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিত্রটি তুলে ধরেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
