৫-২ ব্যবধানে জয়! সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এমন বড় জয়ে সন্তুষ্টির ঢেঁকুর তুলতেই পারেন ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা। এই জয়ে ফ্রান্স এখন ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষের দল, নক-আউট পর্ব প্রায় নিশ্চিত। শুক্রবার রাতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয়টা দারুণ উদযাপন করছেন দিদিয়ের দেশমের শীষ্যরা। দলের তারকা খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই গোল পাওয়ায় সন্তুষ্টির মাত্রাটা বেশিই। অলিভার গেরুদ, ব্ল্যাইজ ম্যাতুইদি, ম্যাথিউ ভ্যালবুয়েনা, করিম বেনজেমা ও মোউসা সিসেকো একটি করে গোল করেছেন।
ম্যাচ শেষে দলের অন্যতম তারকা অলিভার গেরুদ বলেন, ‘ব্যতিক্রমধর্মী এক অভিযানে ছিলাম আমরা। এখানে অনেক কৌতুক ছিল। মাঠে আমরা আমাদের খেলাটা দেখাতে পেরেছি। ম্যাচটিতে আমরা সংকল্প এবং দৃঢ়তার মধ্যদিয়ে জিতেছি। অনেক মজা করেছি আমরা। কার্যকরী খেলা খেলেছি। ব্যক্তিগত দিক থেকে বলবো আসরে প্রথম গোল করতে পারায় এবং প্রথম কোনো গোলে বল যোগান দিতে পারায় স্বস্তি বোধ করছি।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইটা উদযাপন করেছেন অপর ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমাও। দুই ম্যাচে তিন গোল করে সদ্য সমাপ্ত ক্লাব ফুটবলের পর বিশ্বকাপেও নিজের যথার্থতার প্রমাণ দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা খেলোয়াড়। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করা বেনজেমা বলেন, ‘আমরা সবাই দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি। যদিও এটা একটি কঠিন ম্যাচ ছিল। আমরা আমাদের নৈপুণ্যে সন্তুষ্ট। ইকুয়েডরের বিপক্ষেও জয়রথ ধরে রাখার চেষ্টা করবো।’
বিশ্বকাপে শতভাগ ছন্দে থাকলেও আরও ভাল করতে চান বেনজেমা, ‘আমি আমার শতভাগ দিয়েই খেলতে পারছি। কিন্তু মনে হচ্ছে আমি আরও ভাল করতে পারবো। এই নৈপুণ্যের জন্য দলের সবাইকে কৃতিত্ব দিচ্ছি আমি। এই সাফল্য কেবল আমার নয়, এটা সবার। দলের যারা প্রথম ম্যাচ খেলেনি তাদেরও আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি। অলিভার (গিরোর্ড) আমি যখন একসঙ্গে খেলি তখন আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস কাজ করে। আমাদের মধ্যে ভাল বুঝাপড়া আছে। তারপরও এই সাফল্য কেবল বেনজেমা বা গিরোর্ডের নয়। সবার প্রচেষ্টায়ই দল এই সাফল্য পেয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় দারুণ রোমাঞ্চিত বেনজেমা, ‘আমি খুবই খুশি এবং গর্বিত। এটা আমাদের জন্য বড় ম্যাচ ছিল। আমরা অনেকগুলো গোল করতে পেরেছি। আমাদের দলীয় নৈপুণ্য ভাল হয়েছে। মাঠে আমরা জবাব দিতে পেরেছি।’
এদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সকে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সুইজারল্যান্ডের কোচ অটমার হিটজফেল্ড, ‘এটা সুইস দলের জন্য কালো একটি দিন বলবো আমি। এই হারে আমাদের সম্মানহানী হয়েছে।’ এটা সুইজারল্যান্ডের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। এর আগে ১৯৯৭ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে নরওয়ের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল তারা।
চার বছর আগে দু:খ ভোলার জন্য বেশ জোরেসোরেই মাঠে নেমেছে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশম যতই নৈরাশ্যবাদী হোন না কেন মাঠের লড়াইয়ে একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান দলটি। সালভাদোরের অ্যারেনা ফন্টে নোভা স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমত গোল উত্সব করলো জিনেদিন জিদানের উত্তরসূরীরা। ‘ই’ গ্রুপ থেকে ৫-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে তারা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে দ্বিতীয় রাউন্ড।
চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রাউন্ডে বাদ, রানার আপ, আবারও প্রথম রাউন্ডে বাদ— ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত এমনটাই হল ফরাসিদের বিশ্বকাপ। সেই পরিসংখ্যান মতে এবার তো অন্তত ফাইনালে পৌঁছানো উচিত সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের!
