ইতালি, ইংল্যান্ড, উরুগুয়ে — ফুটবলের তিন পরাশক্তি! এমন তিনটি দল যখন এক গ্রুপে তখন অন্যদের আর সুযোগ কোথায়! কিন্তু খেলা মাঠে গড়াতেই ভিন্ন দৃশ্য। ‘ডি’ — গ্রুপ সৃষ্টি করলো নতুন এক ইতিহাস। মৃত্যকূপ থেকে তারা পৌঁছে গেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
তাও সেই যাওয়াটাও কত রাজকীয়। প্রথম উরুগুয়ে, এরপর ইতালি — পর পর দুই দৈত্য বধ করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ষোলতে। উত্সব করতে এর চেয়ে বড় উপলক্ষ দরকার হয় না। কোস্টারিকাও তাই এখন ভাসছে উত্সবে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোস্টারিকার কোচ জর্জ লুইস পিন্টোর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ারই কথা। আবেগ সামলে পিন্তো ইতালির বিপক্ষে দারুণ জয়টিকে কোস্টারিকার জন্য ‘বিশেষ’ আর ‘ঐতিহাসিক’ বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন।
রেসিফের আরেনা পের্নামবুকোতে অধিনায়ক ব্রায়ান রুইসের গোলে গত শুক্রবার রাতে ইতালিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকেট পেল কোস্টারিকা। এমন দিন কোস্টা রিকার ফুটবল ইতিহাসে খুব বেশি আসেনি। এর আগে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপে ১৯৯০ সালে শেষ ষোলোতে উঠেছিল কোস্টারিকা। এর পর কেটে গেছে ২৪ বছর। দুই যুগে ৫টি বিশ্বকাপের ৩টিতেই মূলপর্বে খেলা হয়নি তাদের, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে খেললেও গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি।
এবার কঠিন এক গ্রুপে পড়েও পুরানো কীর্তিকে ছুঁতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত কোস্টারিকার কোচ, ‘আজকের দিনটি খুবই বিশেষ। জানতাম, আজ আমরা ইতিহাস গড়তে পারি এবং ইতিহাস আমরা গড়েছিও।’
চার বারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, দুইবার বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়ে আর ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের গ্রুপে পড়া কোস্টারিকাকে আগেই সবাই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল।
আর সব হিসেব-নিকেশ পাল্টে গ্রুপের তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পেছনে ফেলে সবার আগে নক আউট পর্বে উঠে গেল কোস্টারিকা। আর ‘ডি’ গ্রুপের মৃত্যুকূপ থেকে এরই মধ্যে বিদায় নেয়া ইংল্যান্ডের সঙ্গী হবে ইতালি ও উরুগুয়ের যে কোনো একটি দল।
দলের এমন সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকদেরও কৃতিত্ব দেন কলম্বিয়ায় জন্ম নেয়া পিন্টো, ‘কোস্টারিকার মানুষ উদযাপন করতে পারে। জাতীয় দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা বেশ ঘনিষ্ঠ এবং এটা খুব ভালো কাজ করছে।’
পিন্টো কোস্টারিকার দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১১ সালে। তার অধীনে ৩টি বছর দল খুব পরিশ্রম করেছে এবং এই সাফল্য তারই ফসল বলে মনে করেন তিনি। তবে পিন্টো আর তার দল এখানেই থেমে থাকতে চান না। বিশ্বকাপটা অনেক কঠিন জেনেও আরো এগিয়ে যেতে চান পিন্টো।
কোস্টারিকা-হতাশার কোনো অজুহাত খুঁজছেন না ইতালির কোচ চেজারে প্রানদেল্লি। বরং উরুগুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের আগে দলের মানসিক ও শারীরিক শক্তি ফিরে পাওয়ার উপায় খুঁজতে ব্যস্ত তিনি, ‘আমরা সূচিটা তো জানতামই। অজুহাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করাটা অপ্রয়োজনীয়।
তাহলে সমস্যাটা কোথায় হলো? প্রানদেল্লির নতুন কৌশলই কী মানানসই ছিল না? এই প্রশ্নের উত্তরে কোস্টারিকার প্রশংসাই শুধু করেন ইতালির কোচ, ‘আমাদের কৌশলে কোনো ভুল ছিল না। তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল এবং আমরা ভিন্ন পথেও চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেটাও কাজে লাগেনি।’
এখন অবশ্য এসব নিয়ে না ভেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান প্রানদেল্লি। উরুগুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে নিজেদের চাঙ্গা করে তুলতে চান তিনি, ‘এই মুহূর্তে নেতিবাচক কিছু ভাবার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না আমি। এই মুহূর্তে আমি আমাদের শক্তি ফিরে পাওয়ার কথা ভাবছি, কারণ কয়দিনের মধ্যেই আমাদের আরেকটি ম্যাচ আছে।’
আগামী মঙ্গলবার নাতালে গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ইতালি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানো ইতালিকে নকআউট পর্বে যেতে এই ম্যাচটি ড্র করলেই চলবে।
